‘ট্রেনের হুইসেল পেয়ে সবাই সরে গেলেও ৫ জন কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান’
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ধলাটেঙ্গর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। ছবি: সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০১:১৪ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০১:৫৭
‘ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের জ্বালানি রেললাইনের পাশে এসে শেষ হয়। এরপর ধলাটেংগড় এলাকায় সবাই নেমে পড়েন। রাত সাাড়ে ৭টার দিকে বাসের চালক ও সহকারী তেল সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের নামিয়ে কাছাকাছি পাম্পে চলে যান। অনেক যাত্রী রেললাইনের ওপর বসেছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে ৪টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন চলে আসে। ট্রেনের হুইসেল পেয়ে সবাই সরে গেলেও ওই পাঁচজন কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।’
শুক্রবার টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার কামরুল হাসান এ তথ্য জানান।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পুর্ব প্রান্তে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
নিহত পাঁচজন হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আবদুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মককর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রোহানী জানান, নিহতদের মধ্যে ২ জন নারী, ২ জন পুরুষ ও এক জন শিশু রয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে লাশ থাকবে। পরিচয় শনাক্ত হলে স্বজনদের কাছে হস্তন্তার করা হবে।
টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ফাঁড়ির পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় বাস থেকে যাত্রীরা নেমে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসেছিলেন।
তিনি আরও জানান, এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিশু, দুই নারী ও দুইজন পুরুষ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খরর পেয়ে যমুনা সেতু পুর্ব থানা পুলিশ ও টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালায়। রাতেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটিতে সড়ক ও রেললাইন সমান্তরাল। ট্রেনের চালক হর্ন দিয়েছিলেন। বেশির ভাগ মানুষই রেললাইন থেকে সরে গিয়েছিলেন। নিহতরা লাইন থেকে সময় মতো সরে যেতে পারেননি।
এবার ঈদের ছুটির মধ্যে গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত বুধবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে ২৬ জন নিহত হন। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের চালকসহ পাঁচজন নিহত হন। তাদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের।
এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
- বিষয় :
- টাঙ্গাইল
- ট্রেন
- ট্রেন দুর্ঘটনা
