ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাম্পে তেল না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে কৃষকের ফোন, তবুও মেলেনি প্রতিকার

পাম্পে তেল না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে কৃষকের ফোন, তবুও মেলেনি প্রতিকার
×

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৪:৪৯

ঈশ্বরদীতে আধুনিক কৃষিযন্ত্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে চরম সংকটে পড়েছেন শত শত কৃষক। এমনকি এক কৃষক সরাসরি কৃষিমন্ত্রীকে ফোন করে প্রতিকার চাইলেও মাঠ পর্যায়ে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। প্লাস্টিকের জার বা ড্রামে তেল বিক্রিতে পাম্প মালিকদের অনীহার কারণে রবিশস্য মাড়াই, সেচ এবং হারভেস্টার মেশিনগুলো অচল হয়ে পড়ার উপক্রম।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। ঈশ্বরদীর এক দল ভুক্তভোগী কৃষক উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা জানান। এ সময় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদের মোবাইলে কল করেন।

মন্ত্রী তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিনকে নির্দেশ দেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে গম, মসুর, খেসারিসহ রবি মৌসুমের ফসল মাড়াই এবং জমি চাষের কাজ বন্ধ।

কৃষক ময়েজ জানান, বর্তমানে প্রতিটি ফসল আবাদে হারভেস্টার, পাওয়ার টিলার ও শ্যালো মেশিনের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এসব ভারী যন্ত্র পাম্পে নিয়ে তেল ভরা অসম্ভব। তাই কৃষকরা যুগ যুগ ধরে প্লাস্টিক জার বা ড্রামে তেল নিয়ে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে পাম্প কর্তৃপক্ষ এ পদ্ধতিতে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষকরা বিপাকে পড়েন।

ভুক্তভোগী কৃষক আদম আলী বলেন, ‘আমার ৮টি কৃষিযন্ত্র চালাতে প্রতিদিন ১০০ লিটার তেল লাগে। পাম্প থেকে জারে তেল না দেওয়ায় ট্রাক্টর নিয়ে গিয়ে তেল এনে অন্য যন্ত্রে ঢালতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং চাহিদার তুলনায় সামান্য।’ অপর কৃষক আমিরুল ইসলাম সরদার জানান, তেলের অভাবে ফসল কাটা ও মাড়াই পুরোপুরি বন্ধ।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিস থেকে ‘কৃষক শনাক্তকরণ কার্ড’ ইস্যু করা হলেও পাম্প মালিকরা তা মানছেন না। কৃষি অফিসার ইউএনওকে চিঠি দিয়েছেন, যা জেলা প্রশাসকের অনুমতির অপেক্ষায়। কৃষকদের প্রশ্ন, এই ‘চিঠি চালাচালি’ শেষ হতে হতে মাঠের ফসল কি নষ্ট হয়ে যাবে?

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, “মন্ত্রী বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ‘ম্যানেজ’ করতে বলেছেন। কিছু কৃষক কার্ড জালিয়াতি করে তেল নিয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সবাই তেল পাবেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘প্লাস্টিকের জারে তেল নেওয়া নিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। আমরা বিষয়টি তদারক এবং পাম্প মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। দ্রুতই এ সংকটের সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন

×