ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কক্সবাজারকে আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতা শুরু

কক্সবাজারকে আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
×

কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ছবি: সমকাল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:০৩

কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার সকালে কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ট্যুরিজম প্রসারে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

স্টেডিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মতো মনোরম একটি জায়গায় বর্তমান অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক এবং জরাজীর্ণ। মাঠের অবস্থা কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও খেলোয়াড় ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই বললেই চলে। বিগত সময়ে এই প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি না হলেও বর্তমান সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে চায়।

আমিনুল হক বলেন, শুধু ক্রিকেট নয় বরং ফুটবল, ইনডোরসহ সব ধরনের খেলার সুবিধাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স বা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের চিন্তা রয়েছে তাদের।

প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমিনুল হক জানান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ক্রিকেট ও ফুটবল বোর্ডের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসবেন। বিশেষ করে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় ফ্লাড লাইট স্থাপনে সিভিল এভিয়েশনের যে বিশেষ বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা দক্ষ স্থপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আলোকসজ্জার বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের স্টেডিয়ামের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যালারির প্রথাগত কাঠামোর বাইরে ঘাসের ওপর বসে বা শুয়ে খেলা দেখার যে সংস্কৃতি বিদেশে রয়েছে, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তেমন কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিসিবি ও পর্যটন করপোরেশনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা অবসানের ইঙ্গিত দেন।

তিনি জানান, অতীতে সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতা বা টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন সব পক্ষ একযোগে ‘সোজা রাস্তায়’ উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। নতুন এই যাত্রায় তিনি সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।

কক্সবাজারে জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতা শুরু
এদিন কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় অষ্টম জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতা। শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের লাবনী পয়েন্টে জমকালো আয়োজনে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ কে এম মুজাহিদ উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি খন্দকার সাইফুল ইসলাম, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান কিউটের কর্ণধার কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল এবং সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সরকার শুধু ক্রিকেট বা ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সার্ফিংসহ সব ধরনের খেলাধুলার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সার্ফিংকে সমান গুরুত্ব দিতে চাই। এ টুর্নামেন্টকে সারা বছর চালু রাখার জন্য আয়োজকদের আহ্বান জানান।

এবারের প্রতিযোগিতায় দুই দিনের এই আসরে তিনটি ক্যাটাগরিতে নারী-পুরুষ মিলে ৭০ জন দেশি সার্ফার অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আয়োজনটি দেশে সার্ফিংকে আরো জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

×