পাহাড় কেটে পোলট্রি খামারের প্রস্তুতি
মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৩ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নে সরকারি বন বিভাগের খাড়া পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি এবং জবরদখল করে মুরগির খামার নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে। এরই মধ্যে ২০ শতাংশ এলাকা কেটে সমতল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে পাহাড় ধ্বংসের এই কাণ্ডকারখানা চালালেও বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গত ২২ ও ২৩ মার্চ থেকে ইসলামপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোদারপাড় ফরেস্ট বিটের পূর্ব পাশে নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত সরকারি পাহাড় কাটার কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি এলাকা পাহাড় কাটা শেষ হয়েছে। এ কাজে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. হাসান, তিনি রাজানগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বগাবিলি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. হোসেনের ভাই। তাঁর ছত্রছায়ায় এ অপকর্ম চলছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পাহাড় কাটায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য হোসেন।
স্থানীয়রা আরও জানায়, একটি বড় আকারের ভেকু ব্যবহার করে পাহাড় কেটে সেই মাটি ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন হাসান। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ট্রাক মাটি দিনে-রাতে বাইরের লোকজনের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের ভিটেবাড়ি ভরাট বা ঘর তৈরির কাজে এই মাটি কিনে নিচ্ছেন। প্রতি ট্রাক মাটি এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন। খলিফাপাড়ার আবদুল খালেক পুকুর ভরাটের জন্য নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নাল জমির মালিক জমির হোসেনসহ আরও ১৫-২০ জন কৃষক জানিয়েছেন, অপরিকল্পিতভাবে খাড়া পাহাড় কাটায় তাদের ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্ষায় পাহাড় ধসে মাটি গিয়ে তাদের জমি ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, ‘আমরা বাধা দিতে গেলে প্রভাবশালী এই ব্যক্তি আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা কয়েকবার এসে ঘুরে গেলেও কাজ বন্ধ হয়নি।’
পাহাড় কাটার বিষয়ে অভিযুক্ত মো. হাসান নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘আগে কাটলেও এখন আর কাটছি না। আমার বিরুদ্ধে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করা হচ্ছে। আমি শুধু একটি মুরগির খামার করার জন্য জায়গাটি তৈরি করেছি।’
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া ইছামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানান, ‘পাহাড় কাটার খবর পেয়ে আমরা সরেজমিনে গিয়ে মাটি কাটার ভেকু জব্দ করেছি এবং জড়িতদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। প্রয়োজনে আবারও অভিযান চালিয়ে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হাসান জানান, ‘পাহাড় কাটার বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইসলামপুরের এই নির্দিষ্ট স্থানেও দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’ কথা হলে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ করেনি। এরপরও আমরা রাঙ্গুনিয়ায় অভিযান চালাব।
এদিকে গত ১ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকায় পাহাড় কাটার দায়ে দুটি ইটভাটাকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইনে ‘কেপিএম’ ইটভাটাকে ১ লাখ এবং ‘কেএবি’ ইটভাটাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
- বিষয় :
- পোলট্রি খামার
