খালে মাটি ফেলায় জলাবদ্ধতা, পানিপ্রবাহ উন্মুক্ত করার দাবি
কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর এলাকায় স্থানীয়দের মানববন্ধন। ছবি : সমকাল
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:০২
কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামনাথপুর এলাকার সীমান্ত সড়কের পাশে এই মানববন্ধন করা হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত সড়কের বক্সকালভার্টের নিচ দিয়ে রামনাথপুর পূর্বপাড়ার প্রায় ১০০ একর ফসলি জমির পানি বুইদ্ধার বিল হয়ে সীমান্তঘেঁষা খালে পড়তো। কিন্তু কালভার্টের সামনে মাটি ফেলার কারণে পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিস্তীর্ণ জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন– আব্দুল মোতালিব, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহিম, মোমেনা খাতুন, জনি মিয়া ও আখতারুজ্জামান। বক্তারা অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রামনাথপুরবাসী জানান, মহিষখলা নদীর ব্রিজ থেকে রামনাথপুর ইমপোর্ট বাজার পর্যন্ত পানি প্রবাহের পথও বাধাগ্রস্ত। এতদিন এই পথ দিয়েই ঢল ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আরশাদ মিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশ ভরাট করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত আরশাদ মিয়া দাবি করেন, ওই নালাটি তার কেনা জমির অংশ এবং এতে অন্যদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি তার দায় নয়।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলহাজ আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন। প্রায় ৫০টি পরিবার জলাবদ্ধতায় ভুগছে এবং প্রায় ১০০ একর জমির বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নায়েবকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবেন, এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- নেত্রকোণা
