শ্রমিককে তুলে নিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতন
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বৃহস্পতিবার হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয় ইটভাটা শ্রমিক কালু মিয়াকে। ছবি: সমকাল
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৪৬
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কালু মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভীরহাট স্লুইসগেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে তাঁর দুই হাত বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়।
ভুক্তভোগী কালু মিয়া উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলীর বাসিন্দা। তিনি পেশায় ইটভাটার শ্রমিক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইটভাটা সর্দার ইসমাইল হোসেন মাঝি মৌলভীরহাটের বাসিন্দা।
ভাইরাল ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, কালু মিয়ার দুই হাত একটি দোকানঘরের আঁড়ায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে বাঁধা হয়। এরপর ইসমাইল মাঝি লাঠি হাতে তাঁকে পেটাতে থাকেন ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এ সময় কালুকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হয়।
একপর্যায়ে ইসমাইলকে বলতে শোনা যায়, ‘ইসমাইল মাঝি কারও জন্য মামলা করে না। কারও আতাই (দিয়ে) সালিশ করে না। নিজের সালিশ নিজে করে। নিজের বিচার নিজে করে। মাপ করলেও নিজে করে। আর জীবনে এগিন কইরতাননো (করবো না)। মাঝির যা ক্ষতিপূরণ এখন দিয়া যামু। ইসমাইল মাঝির লগে এই কাম করিস না কেউ।’ ইসমাইলের কথাগুলো কালু বারবার বলতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করার জন্য ইসমাইলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন কালু। সেই অনুযায়ী টাকাও নিয়েছেন। কিছুদিন আগে অসুস্থতার কারণে চট্টগ্রাম থেকে কালু বাড়িতে চলে আসেন। এরপর তিনি শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখান থেকেই ইসমাইল মাঝির নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কালুকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন ইসমাইল। পরে কালুর কাছ থেকে তাঁর ভাইদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতিও আদায় করা হয়। মারধরে কালু অসুস্থ হয়ে পড়লেও এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সাদা কাগজে মুচলেকা রাখা হয়। পরে তাঁকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কালু মিয়ার ভাষ্য, ‘ইসমাইল মাঝি আমাকে তাঁর লোকজন দিয়ে ধরে নিয়ে হাত বেঁধে মারধর করে। পরে আমার বাড়িতে খবর দেয়, এক লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য।’ মারধরের এ ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়।
ইসমাইল মাঝি বলেন, ‘কালুকে বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে নেওয়া হয়। সে ঠিকমতো কাজ করছিলো না। প্রায়ই নানা অজুহাতে কাজ ফেলে চলে আসে। যে কারণে, ভয় দেখানোর জন্য তাঁকে সামান্য কয়েকটি বেত্রাঘাত করা হয়েছে।’ দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হলেও তাকে বেশি মারধর করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি নজরে এলে শুক্রবার রাতেই পুলিশ ভুক্তভোগী শ্রমিককে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত ইটভাটা সর্দারকে ধরতে অভিযান চলছে।
- বিষয় :
- লক্ষ্মীপুর
- কমলনগর
- নির্যাতন
