ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খোয়াই নদীতে মাটি-বালু উত্তোলনে ভাঙন আতঙ্ক

খোয়াই নদীতে মাটি-বালু উত্তোলনে ভাঙন আতঙ্ক
×

এক্সক্যাভেটরের ধাতব আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর চরাঞ্চল সমকাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা থেকে সদর উপজেলা পর্যন্ত খোয়াই নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদার চলছে বালু উত্তোলন। একই সঙ্গে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে নদীর পাড় ও আশপাশের মাটি। এতে সামনে বর্ষার মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কামড়াপুর, চানপুর, গরুবাজার, গোবিন্দপুর, রামপুর, ইনাতাবাদ, মাছুলিয়া, তেতৈয়া, মশাজান, পাইকপাড়া; শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর, পূর্ব লেঞ্জাপাড়া ও লস্করপুর; চুনারুঘাট উপজেলার বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত কয়েকটি পয়েন্টে রাত-দিন চলছে ড্রেজার মেশিন। নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে একটি প্রভাবশালী চক্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর, যার কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের পিচ উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর ও লেঞ্জাপাড়া এলাকার দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন দিন-রাত আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোমতে রক্ষা করে নদীর তীরবর্তী বাঁধ। কিন্তু সে আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন, যা নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। একই অবস্থা সদর উপজেলা ও চুনারুঘাট উপজেলায় অন্তত শতাধিক স্পটের। 

নদীপাড়ের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ জানান, নদী থেকে বালু ও নদীর চর কেটে নেওয়ায় নদীর বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সামনে বর্ষার মৌসুমে নদীপাড়ের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। যারা এসব বালু-মাটি উত্তোলন করছে তারা এলাকার প্রভাবশালী। যে কারণে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজদারি কাম্য।
মুহিন মিয়া বলেন, ক্রমাগত বালু-মাটি ট্রাক্টর ও ট্রাকযোগে পরিবহনের ফলে এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। বৃষ্টির দিনে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে দুর্ভোগে পড়ছে গ্রামবাসী।
আব্দুর রউফ বলেন, বালুখেকোরা প্রভাবশালী। তাদের অনেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। যে কারণে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। 

সচেতন মহল বলছে, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং তীরের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খোয়াই নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলনে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। 
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ড করে কেউ পার পাবে না। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন

×