শমশেরনগর ক্যামেলিয়া হাসপাতাল
চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে বাগানের শ্রমিকরা
শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৪৩ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৩২
চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিক বিক্ষোভ ও হামলার জেরে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ চা শ্রমিকরা।
গতকাল রোববার পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ মার্চের ওই ঘটনার পর থেকে টানা ১৭ দিন ধরে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাগান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর বার বার আবেদন জানাচ্ছেন সাধারণ শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতারা। এর পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।
শমশেরনগর বাগানে কর্মরত চা শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির একমাত্র স্থানটি নিষ্ক্রিয় থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তাদের কমলগঞ্জ উপজেলায় যেতে হচ্ছে– যা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ মার্চ রাতে শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথা ব্যথা নিয়ে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাতেই দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ঐশীর চিকিৎসা শুরু করেন। ২৭ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঐশীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার স্বজনের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয় ভুল চিকিৎসায় তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগানের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতাল ঘেরাও করে সেখানে থাকা চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করেন। এ সময় তারা হাসপাতালের ভেতর ভাঙচুরও চালান।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হাসপাতালের সবাইকে উদ্ধার করে।
এদিন শ্রমিকদের চাপের মুখে ঐশীকে সেবা দেওয়া চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন পদত্যাগ করেন। ওই ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে ১৭ দিন ধরে চিকিৎসক ও স্টাফরা হাসপাতালে আসছেন না। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বাগানের চিকিৎসা ব্যবস্থা।
এমন অবস্থায় শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বাগান পঞ্চায়েতের নেতারা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য বাগান ব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত আবেদন জানান। এখন পর্যন্ত এই সমস্যার কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলা ও আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে হাসপাতালের সবাই শঙ্কিত। যার কারণে ২৭ মার্চ থেকে তারা হাসপাতালে আসছেন না। এতে করে সেখানকার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে হাসপাতাল দেখভালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
শমশেরনগর চা বাগান পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক গোপাল কানু ও কানিহাটি বাগানের চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন জানান, চিকিৎসাধীন শিশু মৃত্যুর পর ২৭ মার্চ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের এক পর্যায়ে শান্ত করা হলেও নিরাপত্তার কথা বলে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এরপর থেকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় চা শ্রমিক পরিবারের রোগীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু মৃত্যুর বিষয়ে লন্ডন থেকে আগত প্রতিনিধি দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে চিকিৎসাসেবা চালু করার জন্য গত শনিবার শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য চা বাগান থেকেও আবেদন জানানো হচ্ছে, বাগানে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসকরা উপস্থিত না থাকায় সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবেন সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে। তারা সবকিছু খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ১৯৯৪ সালে শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানে স্থাপিত হয়।
- বিষয় :
- মৌলভীবাজার
- কমলগঞ্জ
- চিকিৎসা সেবা
