বর্ষার আগেই যমুনার তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের নিহালপুরে যমুনার ভাঙন। গতকাল সোমবার তোলা সমকাল
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
শিবালয়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, চার-পাঁচ দিন ধরে উপজেলার জাফরগঞ্জ, গোয়ারিয়া, ডালা মালুচি, গান্দাইল, তেওতা, সমেজঘর তেওতা, নিহালপুর, আরিচা, অন্বয়পুর, হেমগঞ্জ, দাসকান্দি, পাটুরিয়া ও নয়াকান্দি পর্যন্ত ১৩-১৪ কিলোমিটার তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকার অনেকেই নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। গত বছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনে পাটুরিয়ার ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাটসহ সাত-আটটি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
নিহাপুর এলাকার তেওতা একাডেমির সহকারী শিক্ষক আমির খান বলেন, আমি প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর বাড়ি করেছিলাম। প্রতিবছর যমুনা নদীতে ভাঙতে ভাঙতে এখন ঘর তোলার জায়গাটুকুও নেই। প্রায় আধা শতাংশ জমির ওপর ছাপড়া ঘর তুলে কোনো রকমে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। যে ভাঙন শুরু হয়েছে এটুকু জমি ও ঘর যে কোনো সময় নদীর মধ্যে চলে যাবে। তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে। কিন্তু নদী ভাঙন রোধে প্রশাসন স্থায়ী ব্যবস্থা নেয় না।
পাটুরিয়া ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন পান্নু খান বলেন, কয়েক দিন ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গত বছরের মতো ফেরিঘাট এলাকাসহ অনেকেরই ঘরবাড়ি বিলীন হবে। নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কমনা করছি।
শিবালয়ের ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মানিকগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আকতারুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এ ছাড়া কোনো স্থানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিক দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
- বিষয় :
- বর্ষা
