নববর্ষের প্রথম দিনে জন্ম, পরিবার নাম রাখল বৈশাখী
পহেলা বৈশাখ ভোরে শেরপুর বন্ধন হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশু ‘বৈশাখী’
দেবাশীষ ভট্টাচার্য, শেরপুর
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৩১ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:০৬
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার প্রসব যন্ত্রণা। একদিকে নতুনের আগমনের প্রতীক্ষা, অন্যপাশে প্রিয়জনকে হারানোর ভয়। মা সাথীমনি যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, ঘড়ির কাঁটা আর হাসপাতালের করিডোর যেন দীর্ঘ হচ্ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। সব শঙ্কা কাটিয়ে পহেলা বৈশাখের প্রথম ভোরে, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে জন্ম নিল এক ফুটফুটে কন্যা শিশু। শেরপুরের বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে নববর্ষের প্রথম দিনে জন্ম নেওয়ায় আনন্দিত পরিবার তার নাম রেখেছে ‘বৈশাখী’।
তবে এই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভোগান্তির গল্প। সাথীমনির বাবা শাহিনুর ইসলাম ও মা নিলুফা বেগম চেয়েছিলেন নাতনির জন্ম যেন নির্বিঘ্নে হয় তাই রাত সাড়ে ৭টায় সাথীমনির প্রসব বেদনা উঠলে তাকে দ্রুত নিয়ে যান শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। নিলুফা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সেই রাতের বর্ণনা দেন, ‘সেখানে কোনো ডাক্তার ছিল না। রাত দেড়টার দিকে নার্স জানালো অবস্থা ভালো না। কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই, গাড়ি নেই। মেয়ের চিৎকার সহ্য করতে না পেরে সিএনজিতে করে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে আসি।’
সদর হাসপাতালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সেখানেও দেখা মেলেনি চিকিৎসকের। রাত ৪টার দিকে নার্স জানান, দ্রুত সিজার না করলে মা ও শিশু কাউকেই বাঁচানো যাবে না। নিম্ন আয়ের পরিবারটি শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পাশের বেসরকারি ‘বন্ধন হাসপাতালে’ সাথীমনিকে ভর্তি করায়। সেখানেই ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে সিজারের মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখে বৈশাখী। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর নাতনিকে কোলে পেয়ে দাদি নূরখুলা বেগমের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। বলেন, পৃথিবীতে আসতে ওর খুব কষ্ট হয়েছে। আল্লাহ ওকে দীর্ঘজীবী করুন।
বৈশাখীর বাবা, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুর রহমান বাবা হওয়ার আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে সরকারি অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাবা হওয়া জীবনের সেরা অনুভূতি। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের সেবার মান খুবই খারাপ। আমি চাই আমার মেয়ে বড় হয়ে চিকিৎসক হোক এবং মানুষের সেবা করুক।’
সরকারি সেবার এই সংকট নিয়ে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মোহাম্মদ মফিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ‘মিটিংয়ে আছেন’ বলে এড়িয়ে যান। তবে জেলা হাসপাতালের গাইনী ইনচার্জ সিস্টার রাজিয়া জানান, বাচ্চার ওজন বেশি এবং মায়ের বয়স কম হওয়ায় নরমাল ডেলিভারি সম্ভব ছিল না।
সিজারিয়ান অপারেশনে যুক্ত থাকা শেরপুরের প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. জসীম উদ্দিন বলেন, নববর্ষের শিক্ষা হলো– পুরনোকে সরিয়ে নতুনের জন্য জায়গা করে দেওয়া। বৈশাখী সুস্থভাবে পৃথিবীতে এসেছে, এটিই বড় কথা।
- বিষয় :
- শেরপুর
- প্রজন্মবরন ১৪৩৩
- সমকাল
- সন্তান প্রসব
