ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাস্তা-খাল দখলের অভিযোগ
সরকারি রাস্তা ও খাল দখলে পোঁতা হয়েছে খুঁটি। লৌহজংয়ের বাসুদিয়া গ্রামে সমকাল
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো সরকারি রাস্তা ও খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান আজাদ ইউনিয়নের বাসুদিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনার কাছে দুইশ বছরের পুরোনো রাস্তাটি সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে এবং ইটের গাঁথুনি দিয়ে ফুলকুচি-মিঠুসার খাল দখল করেছেন। এতে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে হট্টগোল বাঁধে। পরে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে চড়াও হলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান।
গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্ধশতাধিক পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ এ রাস্তা দিয়ে মসজিদ, স্কুল-কলেজ ও বাজারে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে খুঁটি পুঁতে একটু একটু করে খালটি দখল করে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ। সেই সঙ্গে আগের রাস্তাটি নিজ বাড়ির আঙিনা হিসেবে দখল করে পাশের খালও দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাস্তার শুরুতেই খুঁটি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে এলাকাবাসী কোনো যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতে না পারে।
খিদিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরিফুজ্জামান লাভলু জানান, ২০০ বছরেরও পুরোনো রাস্তা দখল করে চেয়ারম্যান আজাদ দেয়াল দিচ্ছেন। একটু একটু করে তিনি কৌশলে রাস্তা ও খাল দখল করছিলেন। এখন এলাকাবাসী জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দখলে বাধা দিয়েছে। একপর্যায়ে তিনি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হলে অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান আজাদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
জানা যায়, চেয়ারম্যান আজাদকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রহত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জ শহরের ডিপজল হত্যা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, পুরোটাই সরকারি রাস্তা, ঠিক আছে। তবে স্থান পরিবর্তন করছি, রাস্তা তো বন্ধ করছি না, খালের পাশ দিয়ে রাস্তা দিচ্ছি।
ইউএনও ফারজানা ববি মিতু বলেন, চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে দ্রুত দখলমুক্ত করতে, অন্যথায় আমরা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব। পরে চেয়ারম্যান সাহেব কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং রাস্তা দখলমুক্ত করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত না হলে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- দখল
