ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফুল নিলেন না ডেপুটি স্পিকার, শিক্ষকদের দিলেন আত্মমর্যাদার বার্তা

ফুল নিলেন না ডেপুটি স্পিকার, শিক্ষকদের দিলেন আত্মমর্যাদার বার্তা
×

গতকাল শুক্রবার সকালে কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সমকাল

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৬ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিজের বিদ্যাপীঠে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেননি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করতে এগিয়ে আসেন। তবে তিনি তা গ্রহণ না করে বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছিলাম দেখি স্কুল থেকে আমাকে ডাকে কিনা। কেউ ডাকে নাই। আমি নিজেই প্রোগ্রাম দিয়েছি। অতএব, আপনারা আমাকে পাননি, আমিই আপনাদের কাছে আসছি।’

পরে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন ডেপুটি স্পিকার। এ সময় তিনি বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন। ২৮টি পদের বিপরীতে মাত্র ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার বিষয়টি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তিনি জানতে চান, শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও কেন স্থায়ী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং কেন বিষয়টি যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়নি।

নিজেকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে সরাসরি ডিমান্ড নোটিশ পাঠানো সমন্বয়ের ঘাটতির পরিচায়ক। আমি ১৭ তারিখ শপথ নিলাম, আর আপনারা আমাকে না জানিয়ে ডিমান্ড নোটিশ পাঠিয়ে দিলেন।’ 

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ফুল নিয়ে বাড়িতে চলে যান। আমি সেই ধরনের এমপি নই।’ একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘শিক্ষকতা সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা। নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। কোনো দলীয় নেতার কাছে ধর্না দেওয়ার প্রয়োজন নেই- নিজেদের সম্মান নিজেদেরই তৈরি করতে হবে।’

তার এ স্পষ্ট বক্তব্যে সভাস্থলে নীরবতা নেমে আসে। স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধির এমন অবস্থান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন

×