ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তীব্র গরমে বিদ্যালয়ে অসুস্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

তীব্র গরমে বিদ্যালয়ে অসুস্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থী
×

জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:২৮

শরীয়তপুরের বিদ্যুৎ সংযোগহীন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক ও পাঁচ শিক্ষার্থী। শনিবার দুপুরে জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকের আশঙ্কা, এতে করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। ভাঙনের ফলে আগের ভবন বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভাড়া স্থানে টিনশেড ঘরে কয়েক বছর পাঠদান চলতো। যেখানে বিদ্যুৎ সুবিধা ছিল। ২০২৪ সালে নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ শুরু হলে বিদ্যালয়টি নিজস্ব জায়গায় নির্মিত আধাপাকা নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু নতুন ভবনে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। 

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে বড় গাছপালা নেই। টানা কয়েক দিন ধরে তীব্র গরম চলছে। টিনের চালার অতিরিক্ত তাপ ও ছায়ার অভাবে শনিবার দুপুরে ক্লাস চলার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তার। পরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থী ইলমা, মাসুদ, রোমান, মারিয়া ও আরিফা একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাথায় পানি ঢেলে প্রাথমিক সেবা দিয়ে ছয়জনকেই সুস্থ করে তোলেন। 

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা আক্তার বললো, ‘প্রচণ্ড গরমে টিনের ঘরে বসে ক্লাস করা খুব কষ্টের। আজ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলাম। ফ্যানের ব্যবস্থা না হলে গরমে স্কুলে আসা আর আসা যাবে না।’ 

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন জানায়, বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে পড়াশোনা করা যায় না। আজ ম্যাডামসহ অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। এ কারণে তারা খুব ভয় পাচ্ছে।

সেন্টু মিয়া নামের এক অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিদ্যুৎ নেই। গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ না দিলে বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

সহকারী শিক্ষিকা জামিলা খাতুনের দেওয়া তথ্যমতে, বিদ্যালয়টি যখন ভাড়ার জায়গায় ছিলো, তখন বিদ্যুৎ ছিল। নতুন জায়গায় আসার পর পুরোনো মিটার খুলে নেওয়া হয়। নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

জাজিরা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি আগে তাদের জানানো হয়নি। বিদ্যালয় থেকে প্রতিনিধি এলে কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একটি খুঁটি সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত খুঁটির খরচ বিদ্যালয়কে বহন করতে হবে।

জাজিরা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদীভাঙন কবলিত এলাকায় হওয়ায় কিছু জটিলতা রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়েছে।  বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×