ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিলেট ডিসির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ

সিলেট ডিসির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ
×

ছবি: সমকাল

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:২৪ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৪৯

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় একদল ব্যবসায়ী। রোববার নগরীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বন্দরবাজার এলাকায় সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। এতে লিখিত বক্তব্য দেন মো. ইনামুল করিম চৌধুরী।

তারা দাবি করেন, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাদের দোকান তালাবদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে দরপত্রের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় কোটি টাকা সেলামি প্রদান করে সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ১ থেকে ৭ নম্বর দোকান স্থায়ীভাবে ভাড়া নেন। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও মসজিদ ট্রাস্টের সঙ্গে পৃথক সাতটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তারা বৈধ ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অনেক ব্যবসায়ী আগাম ভাড়াও পরিশোধ করেছেন। এ অবস্থায় গত ১০ মার্চ মসজিদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি নোটিশে জানানো হয়, ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যমান ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে দোকান খালি করে বুঝিয়ে দিতে হবে।

ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের এ ধরনের সিদ্ধান্তকে একতরফা, বেআইনি ও চুক্তিবিরোধী বলে উল্লেখ করে জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ট্রাস্ট বা জেলা প্রশাসনের একতরফাভাবে চুক্তি বাতিলের কোনো এখতিয়ার নেই। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, যা এখানে মানা হয়নি।

বক্তব্যে আরও বলেন, নোটিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ১২ মার্চ আদালত দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া পৃথক আরও দুটি রিটের প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। 

ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, আদালতের এ আদেশ থাকার পরও ২৫ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মার্কেটে গিয়ে দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন। পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে দোকানগুলোর শাটারে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। 

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার চেষ্টা করলেও সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এবং সিলেটের মন্ত্রী ও উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামিল আহমদ তাফাদার, জামিল চৌধুরীর পক্ষে ইনামুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ সানাজ, মো. আলী হোসেনের পক্ষে আল আমিন আহমদ, আলী হায়দারের পক্ষে মো. আব্দুর রহিম বাদশা, হাফিজ ওয়াসিল আলীর পক্ষে মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দোকানের পজিশনের শর্ত ভঙ্গ এবং নামমাত্র ভাড়াসহ বিভিন্ন কারণে দোকানগুলো সিলগালা করা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসন তাদের মালিকানাধীন ভবন ও দোকানগুলো সিলগালা করছে।

আরও পড়ুন

×