কিশোরগঞ্জ
মড়কে দিশেহারা মুরগির খামারি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জে একটি লেয়ার মুরগির (ডিমের মুরগি) খামারে মড়ক লেগে প্রতিদিনই অন্তত ৩০টি মুরগি মারা যাচ্ছে। কী কারণে বা কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগিগুলো মারা যাচ্ছে, বুঝতে পারছেন না ভুক্তভোগী খামার মালিক। স্থানীয়ভাবে কোনো ল্যাব না থাকায় আক্রান্ত মুরগির কোনো নমুনা পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এরপরও মড়ক থামছে না।
কথাগুলো বলছিলেন সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মারিয়া গ্রামের খামারি মো. হোসেন মিয়া ও মো. আজিম উদ্দিন।
সোমবার দুপুরে দক্ষিণ মারিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, একটি টিনশেডের নিচে অসংখ্য মধ্য বয়সী লেয়ার মুরগি। এখনও ডিম পাড়ার বয়স হয়নি। সোমবার সকাল থেকে চার ঘণ্টায় ১৭টি মুরগি মারা যেতে দেখা গেছে। রোগের অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে সবুজ পায়খানা করা। এরপর কিছুক্ষণ ঝিমুনি দিয়ে মারা যায়।
খামারিরা জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের ডায়মন্ড পোলট্রির হ্যাচারি থেকে একদিন বয়সী দুই হাজার ৮০০ বাচ্চা খামারে আনা হয়েছে। এগুলো ২০ সপ্তাহ বয়স হলে ডিম দেবে। কিন্তু বাচ্চা আনার কয়েকদিন পর থেকেই মড়ক শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮০০ বাচ্চা মারা গেছে। প্রথম দিকে মৃত্যু হার কম ছিল। ইদানীং বেড়েছে। মড়ক শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কেবল ওষুধ বাবদই খরচ হয়ে গেছে দেড় লাখ টাকা। এখন দৈনিক খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। দৈনিক খাবার খরচও যাচ্ছে সাত হাজার টাকা। অর্থাৎ চিকিৎসা আর খাবার খরচই দৈনিক চলে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। লাভ দূরে থাক, পুঁজি শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
খামারি হোসেন মিয়ার ভাষ্য, তিনি ১১ বছর আগে লেয়ার মুরগির খামার শুরু করেছেন। ডিমের ব্যবসাটি তাঁর বেশ লাভজনক ছিল। এই খামার থেকে তিনি গরুর খামার করেছেন, কিছু জমিও কিনেছেন। কিন্তু গত দুটি ব্যাচ থেকে তিনি এই মড়কের সমস্যা মোকাবিলা করছেন। তাদের খামারের মুরগির চিকিৎসা করান নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাহাদুর আলীকে দিয়ে। তিনি এক সময় কিশোরগঞ্জ সদরে চাকরি করতেন। সেই পরিচয়ে এখনও তাঁকে দিয়েই চিকিৎসা করাচ্ছেন। তাঁর কাছে মরা মুরগি নিয়ে যাবার পর তিনি লক্ষণ দেখে এবং খামারির বর্ণনা শুনে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দেন।
হোসেন মিয়া বলেন, জেলায় শত শত মুরগির খামার রয়েছে। অথচ এখানে রোগের পরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাব নেই। কিশোরগঞ্জে একটি পোলট্রি ল্যাব স্থাপন করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।
প্রাণী চিকিৎসক ডা. বাহাদুর আলী এই প্রতিবেদককে মুরগির মড়কের ব্যাপারে মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে জানান, মুরগির বাচ্চাকে শুরুতেই ‘রিও ভ্যাকসিন’ নামে একটি ভ্যাকসিন দিতে হয়। না দিলে ২২ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি দেখা দেয়। তখন নানারকম ভাইরাসে সহজেই কাবু হয়ে যায়। হোসেন মিয়াদের খামারের এসব বাচ্চাকে ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়নি বলে নানারকম ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, এখন বার্ড ফ্লুর একটি প্রকোপ চলছে। এটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগের মূলত কোনো চিকিৎসা নেই। তিনি আরও জানান, এখন মুরগির রোগ শনাক্তকরণে এক ধরনের কিট বেরিয়েছে। এর দ্বারাই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। তবে কিশোরগঞ্জে এসব কিটের সরবরাহ আপাতত নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জেলায় লেয়ার
মুরগির খামার আছে এক হাজার ৫২৮টি। এর মধ্যে নানা কারণে প্রায় ১০ ভাগ খামার সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে।
- বিষয় :
- মুরগি
