ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় নামছেন জেলেরা, ইলিশের আশায় নতুন স্বপ্ন

নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় নামছেন জেলেরা, ইলিশের আশায় নতুন স্বপ্ন
×

আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৪১

ইলিশের প্রধান প্রজননক্ষেত্র উপকূলীয় মেঘনা নদীতে জাটকা সংরক্ষণে টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে। ফলে আগামীকাল (১ মে) থেকে লক্ষ্মীপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে আবারও পুরোদমে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন। অনেক জেলে আজ রাত থেকেই ট্রলার ও নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়বেন।

দীর্ঘ দুই মাস ঘরে বসে থাকা জেলেরা নতুন আশায় বুক বেঁধে জাল সেলাই, নৌকা মেরামত ও ট্রলার প্রস্তুতের কাজ শেষ করে এখন নদীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ভালো মাছ মিলবে এবং সেই মাছেই কাটবে দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন।

তবে অনেক জেলে অভিযোগ করেছেন, সরকারি খাদ্যসহায়তা না পাওয়া, ঋণের চাপ এবং সংসার চালানোর তাগিদে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরেছেন। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী এলাকার জেলে আব্দুল কাদের বলেন, দুই মাস ঘরে বসে ছিলাম। সংসার চালাতে ঋণ করতে হয়েছে। সরকারি চালও ঠিকমতো পাইনি। তাই, বাধ্য হয়ে কয়েকদিন নদীতে মাছ ধরতে গেছি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে, আশা করছি ভালো মাছ পাবো।

কমলনগরের মতিরহাট এলাকার জেলে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নদীতে না নামলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। ঋণের চাপ বাড়ছে। তেলের দামও অনেক বেশি। মাছ না পেলে আরও বিপদে পড়তে হবে।

সদর উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার জেলে হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা আইন ভাঙতে চাই না। কিন্তু সন্তানদের খাবার জোগাতে না পেরে অনেকেই রাতে নদীতে নামতে বাধ্য হয়েছে। প্রশাসন যদি ঠিকমতো সহায়তা দিত, তাহলে কেউ নিষেধাজ্ঞা ভাঙতো না।

জেলেরা আরও জানান, সরকারি খাদ্যসহায়তার তালিকায় নাম থাকলেও অনেকেই চাল পাননি। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেন, খাদ্য সহায়তা পেতে দালালদের টাকা দিতে হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতকরণও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা আহরণ জুন মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ২৪৪টি অভিযান চালিয়ে ২৯টি মামলা, ৩০টি নৌকা আটক, ১৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। তবে ১ মে থেকে জেলেরা নদীতে নামতে পারবেন। কিন্তু জাটকা আহরণ, নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ সরঞ্জাম ব্যবহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। কেউ আমাদের নাম ভাঙিয়ে কিছু করলে তার দায় মৎস্য বিভাগ নেবে না।

নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও খাদ্য সহায়তা ও সঠিক নজরদারি নিশ্চিত না হলে জাটকা সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×