সিলেট
মৃতপ্রায় সেই বাসিয়া নদীর পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
এক সময়ের খরস্রোতা বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী
মুকিত রহমানী, সিলেট
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ | ১৫:৪০ | আপডেট: ০২ মে ২০২৬ | ১৫:৪০
সিলেটের বাসিয়া নদী। সিলেট সদরের মাসুক বাজার থেকে শুরু হয়ে বিশ্বনাথ উপজেলার সদরের উপর দিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বরাক বিলে মিলিত হয়েছে। এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীটি এখন মৃতপ্রায়। ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৪৯ বছর পর বাবার মতো তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। দুপুরে স্থানীয় মাসুক বাজার এলাকায় নিজ হাতে মাটি কেটে শ্রমিকদের মাথায় তুলে দেন।
স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন, নাব্য হারানো বাসিয়া নদী তার যৌবন ফিরে পাবে। খনন কাজ শেষ হলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। পাশাপাশি দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকার পাবেন। তবে এখনও নদীর সীমানা নির্ধারণ হয়নি। সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভরাট হয়ে সরু হওয়া ‘বাসিয়া নদী’র দৈর্ঘ্য প্রায় চল্লিশ কিলোমিটারের কথা জানিয়েছে। নদীর উৎসব মুখসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১২ কোটি টাকার পুনঃখনন কাজ করার কথা জানিয়েছেন পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস।
খনন কাজের উদ্বোধনের সময় এলাকাবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়া নদীটা আছে, এখানে যে খালটা, সেটা ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খালটা চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে না? এই খালটা আমরা কাটতে চাই। কেন কাটতে চাই প্রশ্ন তুলে বলেন, খালটি কাটা হলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষকের সরাসরি উপকার হবে।
তিনি বলেন, খালটা কাটলে আপনাদের যাদের জমি-জমা আছে, তাতে দুই পাশের জমি থেকে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার দুপুরে যখন প্রধানমন্ত্রী মাসুক বাজার এলাকায় পৌছান তখন এলাকার লোকজন তাঁকে স্বাগত জানান। হেঁটে নামেন নদীর চরে। কুদাল হাতে মাটি কুড়ে তুলে দেন শ্রমিকদের মাথায়। পরে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
স্থানীয়দের তথ্যমেতে, বাসিয়া নদী হলেও এখন খালে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দখল ও দূষণের কারণে নাব্য হারিয়েছে নদীটি। অতীতে একাধিকবার বাসিয়া নদী রক্ষায় বিশ্বনাথ উপজেলার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ আন্দোলন করেছেন। নদীটির উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্বনাথ উপজেলায় অবস্থিত। এছাড়া সিলেট সদর ছাড়া দক্ষিণ সুরমা ও ওসমানীনগরের অংশবিশেষ রয়েছে।
- বিষয় :
- জগন্নাথপুর
- নদী
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
