সৌদি আরব থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন যুবক
রনি মিয়ার কফিনবন্দি লাশ
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ | ২৩:৪৯
সহায়সম্বল বিক্রির প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরব যান শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের দীঘিরপাড় পালাপাড় গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রনি মিয়া। বাড়িতে রেখে যান মা-বাবা, স্ত্রী দিলরুবা, দুই শিশু সন্তান সুমাইয়া ও মুফসিনকে। গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
রনির লাশ সৌদির আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে রাখা হয়। লাশ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবার। এক পর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বড় ভাই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। তাদের উদ্যোগে গত শুক্রবার বিকেলে রিয়াদ থেকে লাশ ঢাকায় পৌঁছায়। শনিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে লাশ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। কফিনবন্দি ছেলেকে গাড়ি থেকে নামানোর পর লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা আব্দুর রাজ্জাক। বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘কত স্বপ্ন দেখছিলাম। ছেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাবে। আমার বৌমা, দুই নাতনি একটু সুখের মুখ দেখবে। তরতাজা ছেলে পাঠাইলাম। আইলো লাশ হইয়া। আল্লাহ এই অসহ্য যন্ত্রণা কেন তুমি আমারে দিলা। আমি কি অপরাধ করছি?’
নিহত রনির মা মল্লিকা বেগম ও স্ত্রী দিলরুবা লাশ দেখে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। দুই সন্তান বুঝতেই পারছিল না তাদের বাবা আর নেই। সরকারের কাছে সহায়তা চেয়ে দিলরুবা বলেন, ‘স্বামী হারিয়েছি। আমাদের কিছুই নেই। দুই এতিম সন্তানকে কীভাবে মানুষ করব?’
রনির বড় ভাই মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারির কাজ নিয়ে সৌদি যান তাঁর ভাই। দুই মাসের মাথায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় ফের সৌদি আরব যান। সহায়সম্বল বিক্রি করে দুই দফায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু কাজ করে কোনো টাকাপয়সা পাঠাতে পারেনি। গত ২১ এপ্রিল তারা জানতে পারেন রিয়াদে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর ভাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনির জানান, রনি খুব ভালো ছেলে ছিলেন। এভাবে চলে যাবেন বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনিও সরকারের কাছে পরিবারটির জন্য সহায়তার দাবি জানান।
ঝিনাইগাতীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-আমিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং চেষ্টা করবেন ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকতে।
