টেকনাফ স্থলবন্দরে ৩ ঘণ্টা পেঁয়াজ খালাস বন্ধ
কাজ বন্ধ রেখে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানান শ্রমিকরা -সমকাল
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৩৯
কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খালাস বন্ধ করে দিয়েছিলেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্দরে পেঁয়াজ খালাস বন্ধ রাখেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বন্দরে শ্রমিকদের জন্য খাবার, পানি ও বিশ্রামগ্রার না থাকায় পেঁয়াজসহ বিভিন্ন মালামাল খালাস বন্ধ রাখেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন, শ্রমিক নেতা ও সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর কাজে ফিরেন। তবে এতক্ষণ পেঁয়াজ খালাস বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মিয়ানমারে থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজভর্তি ১৫টি ট্রলার খালাসের জন্য টেকনাফ স্থলবন্দর জেটি ঘাটে রয়েছে। এসব ট্রলারে ৩০ হাজারের বেশি পেঁয়াজের বস্তা রয়েছে। এদিকে এসব পেঁয়াজ খালাস বন্ধ রেখে শত শত শ্রমিক বন্দর কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করে। পরে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা কাজে ফিরেন।
বন্দরের শ্রমিক পরিচয় দিয়ে রহিম উল্লাহ নামে এক যুবক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ স্থলবন্দরের গেটের সামনে কিছু ভাতের দোকান ছিল। বুধবার হঠাৎ করে কোন কথা বলে সেগুলো ভেঙে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। বন্দরের শত শত শ্রমিকরা এসব দোকানে খাবার খেয়ে আসছিল। এসব দোকাগুলো ভেঙে দেওয়ার কারণে বন্দর শ্রমিকরা বিপদে পড়েছে এখন। তাছড়া বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও শ্রমিকদের জন্য খাবার, পানি ও বিশ্রামগ্রারের কোন ব্যবস্থা করেনি।
জানতে চাইলে টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবুল মনসুর বলেন, ‘স্থলবন্দরে সামনে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ২০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব দোকানের কারণে বাণিজ্যিক এ সড়কে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। তাই এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’
টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘বন্দরের শ্রমিকরা হঠাৎ করে পেঁয়াজ খালাস বন্ধ করে দেয়। পরে কিছুক্ষণের মধ্যে বন্দর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এতে পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রাখলেও, বন্দর কতৃপক্ষের অব্যবস্থপনার কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দর শ্রমিকের এক নেতা বলেন, বন্দরে গেটের সামনে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতে শ্রমিকরা পানি, খাবার ও বিশ্রামের জায়গা পেত। কিন্তু সেগুলো ভেঙে ফেলার কারণে বন্দরে এক গ্লাস পানি পান করার সুযোগও নেই। শ্রমিকরা কি মানুষ না?
তিনি বলেন,‘ বিশেষ করে বন্দরে টয়লেট সঙ্কটসহ অব্যবস্থপনার কারণে শ্রমিকরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। সমস্যার সমাধান না হলে আগামীতে শ্রমিকরা আবারও কাজ বন্ধ করে দেবে।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘স্থলবন্দরে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কারণে টুকিটাকি কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। এটা বিশাল কিছু না। সমস্যাটি নিজেরাই সমাধান করে ফেলেছি। মিয়ানামার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুতগতিতে খালাস করা হচ্ছে। পেঁয়াজের কোন ট্রলার যাতে অপেক্ষা করতে না হয় সে ব্যবস্থা করছে বন্দর কতৃপক্ষ। আজও ১৮’শ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ খালাস শেষে শতাধিকের বেশি গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে রওয়ানা হয়েছে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দিন বলেন, মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত ১৮শ’ মেট্রিক টন পেঁয়াজ খালাস করা হয়েছে। এর আগের দিন প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন খালাস শেষে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে গেছে। মিয়ানমার থেকে যেভাবে দেশে পেয়াঁজ আমদানি হচ্ছে, এতে সংকট থাকবে না।
সদ্য যোগদানকারী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থলবন্দরের বিষয়টি শুনেছি। তবে সেটি সমাধান করা হয়েছে। বন্দরের সমাস্য নিয়ে দ্রুত বৈঠক করা হবে।
- বিষয় :
- টেকনাফ স্থলবন্দর
- পেঁয়াজ
- আমদানি
- রফতানি