ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

‘আমাকে মামলায় দেবেন না, শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন’

‘আমাকে মামলায় দেবেন না, শুধু  দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন’
×

এসআই আবু হানিফ, জসিম উদ্দিন

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কলমাকান্দায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জব্দ চোরাই পণ্য ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে দরকষাকষির অভিযোগ উঠেছে। চোরাকারবারির সঙ্গে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কথোপকথনের দুটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

গত বুধবার বিকেল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে কলমাকান্দা থানার এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মধ্যে ঘুষ-সংক্রান্ত কথোপকথন রয়েছে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধন সামগ্রী জব্দ করে পুলিশ। জব্দ পণ্যের মধ্যে ছিল ডাভ শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন কসমেটিকস। এ সময় পিকআপ চালক নাসিম ও সহকারী মনির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, জসিম এই চোরাচালান চক্রের মূলহোতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি চোরাকারবারি চক্র গড়ে তুলেছেন জসিম উদ্দিন। তিনি ‘স্মাগলার জসিম’ নামেও পরিচিত। ভাইরাল অডিওতে তার কণ্ঠ থাকার দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া কথোপকথনের একটি অংশে শোনা যায়, ‘স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আমাকে মামলায় দেবেন না, শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।’ জবাবে বলা হয়, ‘না ভাই, এর কম হবে না, তিন লাখ টাকা দেন।’ অন্য একটি অডিওতে শোনা যায়, ‘আপনি যা করার দ্রুত করেন। আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।’ এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার সময় রেকর্ড না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই আবু হানিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘চোরাকারবারি চক্রকে ধরতে কৌশলগতভাবে কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা আপসের প্রশ্নই ওঠে না।’ কথোপকথনের অপর ব্যক্তি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কলমাকান্দা থানার ওসি সিদ্দিক হোসেনের ভাষ্য, চোরাকারবারির সঙ্গে কথোপকথন করা ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে এসআই আবু হানিফ বলে ধারণা করছেন তারা। চোরাকারবারির সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি। এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার সাংবাদিকদের জানান, এসআই আবু হানিফাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলমাকান্দা থানার ওসি সিদ্দিক হোসেনকে কেন্দুয়া পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পদায়ন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×