ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুখের আশা ডুবল কাউয়াদিঘির জলে

সুখের আশা ডুবল কাউয়াদিঘির জলে
×

মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরপারের বিরাইমাবাদ এলাকায় ধান সংগ্রহে ব্যস্ত চা-বাগানের মৌসুমি বোরো চাষিরা সমকাল

নূরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

চা বাগানে শ্রম বিক্রির মজুরি মূল্যে জীবন চলছে না শ্রমিকদের। তাদেরই একজন রাজনগর চা বাগানের শ্রমিক প্রদীপ পাসী। ভাগ্য বদল করতে এবার মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরে বোরো ধান চাষে ঝুঁকে ছিলেন। আর তাতেই নেমে এলো বিপত্তি। সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব প্রদীপ।

কাউয়াদীঘি হাওরের কালাপানি ও ভেড়া বিল এলাকায় ৩৯ কেয়ার (বিঘা) জমি চাষে আড়াই টাকা খরচ করে ঋণের বেড়াজালে আটকা পড়েছেন প্রদীপ। বোরোর ভালো ফলনের আশায় সার-কীটনাশক, আগাছা নিড়ানোসহ বিভিন্ন কাজের খরচ মেটাতে দুটি বলদ বিক্রি করেছেন। চাষ করা ৩৯ কেয়ারের মাঝে মাত্র আট বা ৯ কেয়ারের ফসল কাটতে পেরেছেন। বাকি সব পানির নিচে। এ পরিস্থিতিতে তিনি সাতজনের পরিবার নিয়ে সারাবছর কীভাবে চলবেন তাই ভেবে পাচ্ছেন না; তার ওপর ঋণের কিস্তি তো আছেই। 

প্রদীপ পাসী জানান, চা বাগানে প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবারের ৭ জন মানুষ আধপেট ভরেও খেতে পারেন না। তাই চা বাগানের কাজের ফাঁকে বাপ-ছেলে মিলে গত সাত বছর ধরে কাউয়াদিঘি হাওরে বোরো ধান চাষ করে আসছেন। এবারের মতো এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আর হয়নি। তিনি জানান, দুই-আড়াই হাজার টাকা কেয়ার দরে এক ফসলের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে ৩৯ কেয়ার জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করেছিলেন। তাঁর আশা ছিল ৮০০ মণ ধান গোলায় তুলতে পারবেন। এতে বলদ বিক্রির এক লাখ ৩৩ হাজার টাকা, এনজিও ঋণ ৭০ হাজার টাকা ও স্থানীয় এক মহাজনের কাছ থেকে সুদে কিছু টাকা নিয়ে পুঁজি খাটিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে আড়াই লাখের কিছু বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ১৩০ মণের মত ধান গোলায় তোলার উপযোগী করেছিলেন। পানিতে সব তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কিস্তি, সুদ ও ধান বিক্রির আগাম আনা টাকা শোধ দেবেন কীভাবে তারপরে সারা বছরের ভোরাকি। অন্যদিকে দুইটা গরু বিক্রির টাকাও গেল। 
এ ধরনের অবস্থায় পড়েছেন রাজু গৌড়, দেও চরণ নুনিয়া, রাম চরণ গৌড়র মতো অনেকেই।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নাগিব মাহফুজ সমকালকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। যিনি বা যারা ফসল ফলিয়েছেন তাদের নামই তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। এর ব্যতিক্রম হলে তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন

×