ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যশোরে ভাঙা হলো আ. লীগ কার্যালয়সহ শতাধিক স্থাপনা

যশোরে ভাঙা হলো আ. লীগ কার্যালয়সহ শতাধিক স্থাপনা
×

যশোরের উপশহরে রোববার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সমকাল

যশোর অফিস

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ২২:০৭

যশোরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সোমবার দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জান যায়, রোববার সকালে শহরের বাবলাতলা এলাকায় প্রথমে অভিযান শুরু হয়। সেখানে সরকারি জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে উচ্ছেদকারী দল গাবতলা মোড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এরপর বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাস্তার পাশে নির্মিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠা দুটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে পার্কসংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়।

অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্থানীয়দের অনেকে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান বলেন, বারবার মাইকিং ও নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ দখলদাররা জায়গা ছাড়েননি। নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বলা হলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। বাধ্য হয়েই উচ্ছেদ অভিযানে নামতে হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। সরকারি জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

এ সময় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব ও উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযানের সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদেরকে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। 

আরও পড়ুন

×