স্বাস্থ্যসেবা বেহাল
রোগী এলেই ধরিয়ে দেওয়া হয় চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৭:৪০
নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে বসেই রোগীদের হাতে ব্যক্তিগত চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. শামীম জাফর সনেট বেলা পৌনে ১১টায় হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং ১১টার দিকে রোগী দেখা শুরু করেন। অথচ বহির্বিভাগে রোগী দেখার সময় শুরু সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এবং শেষ বেলা ২টার দিকে। এ সময় কক্ষে রোগীরা অপেক্ষা করলেও নানা অজুহাতে বসিয়ে রাখা হয়। রোগী দেখা শুরু হলেও অধিকাংশ রোগীকেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিজিটিং কার্ড এবং সেখান থেকেই পরীক্ষা করাতে বলা হয়।
প্রতিবেদক নিজে রোগী সেজে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁকেও একইভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ড দেওয়া হয়। হাসপাতালেই পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিলে চিকিৎসক জানান, ‘এখানকার যন্ত্রপাতি ভালো না, বাইরে থেকে পরীক্ষা করে আনেন।’ এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বেলা ১২টা না বাজতেই রোগীদের রেখে হাসপাতাল ত্যাগ করার অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ফাতেমা বলেন, ‘আগেও আমাকে নির্ধারিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করতে বলেছিল। আমি অন্য জায়গা থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনলে রিপোর্ট দেখেননি। আবার একই জায়গা থেকে পরীক্ষা করতে বলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, বারবার পরীক্ষা করার টাকা কোথায় পাব?’ আরেক রোগী সেকেন্দার আলী প্রামাণিক অভিযোগ করেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ, ডাক্তারকে অনুরোধ করলেও তিনি বলেন আজ হবে না, কাল আসেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে এমন অভিযোগ রোগীদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু অনৈতিকই নয়; বরং আইনগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে অনেকেই বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট সেন্টারেই পরীক্ষা করছেন।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. শামীম জাফর সনেট বলেন, ‘কিছু পরীক্ষা বাইরে করতে বলা হয়, তবে আমি কাউকে কোনো ভিজিটিং কার্ড দিইনি।’ ডিউটি টাইমের আগে হাসপাতাল ত্যাগের বিষয়ে তার দাবি, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে ওইদিন হাসপাতালে আসতে দেরি হয়েছে এবং সিনিয়রের অনুমতি নিয়েই আগে বের হয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- নন্দীগ্রাম
