ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অগ্নিকাণ্ডে নিহত দম্পতির দুই মেয়ের দায়িত্ব নিলেন এমপি

অগ্নিকাণ্ডে নিহত দম্পতির দুই মেয়ের দায়িত্ব নিলেন এমপি
×

দোহার উপজেলার বিলাশপুরের রাধানগর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত আব্দুস সালাম শিকদারের মেয়েদের পাশে এমপি খন্দকার আবু আশফাক। ছবি: সমকাল

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ১০:৫৭

দোহার উপজেলার বিলাশপুরের রাধানগর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত দম্পতির দুই মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। গতকাল রোববার দুপুরে মেয়ে দুটির খোঁজখবর নেন তিনি। তাৎক্ষণিক তাদের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন এই সংসদ সদস্য।

তারা হলো- নিহত আব্দুস সালাম শিকদারের মেয়ে জান্নাতুল (১৩) ও খাদিজা (১১)। তারা দোহার উপজেলার বেগম আয়েশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সৌদি আরব ফেরত আব্দুস সালাম শিকদারের টিনকাঠের বসতঘরে আগুন লাগে। এ সময়ে বসতঘরে ছিলেন স্বামী-স্ত্রী, দুই মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সী নাতি। আগুন বসতঘরে ছড়িয়ে পড়লে ঘুম থেকে সবাই জেগে ওঠে। গৃহকর্তা সালাম বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করতে গেলে তার জড়িয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী নাছিমা শাবল দিয়ে ঘরের জানালা ভেঙে তাঁর নাবালিকা দুই মেয়ে ও নাতিকে ভাসুর আয়নাল শিকদারের কাছে তুলে দেন। এরপর তিনি ও তাঁর স্বামী আর বের হতে পারেননি। আগুনে দগ্ধ হয়ে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

আয়নাল শিকদার বলেন, ‘নাছিমা তাঁর সন্তানদের আমার হাতে তুলে দিয়ে নিজে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জানালায় তাঁর শরীর আটকে যায়। ততক্ষণে আগুনের শিখা দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে। আমি নিজেও আগুনে আহত হয়েছি।’

জানা গেছে, একটি মাত্র টিনের ঘরে বসবাস করতেন সালাম দম্পতি ও তাঁর দুই মেয়ে। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তারা স্বামীর বাড়িতে থাকেন। আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটির কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।  

গতকাল রোববার দুপুরে রাধানগর পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য আবু আশফাক নিহত সালাম শিকদার ও নাছিমা বেগমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা হৃদয়বিদারক। আল্লাহ যেন কাউকে এই ধরনের বিপদে না ফেলেন। এ সময় তিনি এতিম দুই শিশুকে পাশে বসিয়ে সান্ত্বনা দেন। তাদের ভরণপোষণসহ বাসস্থান নির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘটনার শোক জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার জন্য তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় তিনি সালামের দুই মেয়ের হাতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের, সাবেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বেপারী, ঢাকা জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল হাশেম বেপারী প্রমুখ।

এর আগে সংসদ সদস্য দোহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক মৎস্যজীবী অংশ নেন। নিষিদ্ধ মৌসুমে যাতে পদ্মায় কোনো ইলিশ বা জাটকা শিকার না করা হয়, সেই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×