ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়া থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন প্রবাসী

মালয়েশিয়া থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন প্রবাসী
×

স্বজনদের আহাজারি

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৬:৪৫

মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার রবিউল হাসান রবিনের লাশ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে লাশটি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কালাই গোবিন্দপুর গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নার শব্দে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একজন দেখতে ভিড় জমান আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন রবিন (৩৮)। প্রবাস জীবনের কষ্ট সহ্য করে স্ত্রী ও তিন সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয় ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে। 

স্বজনদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গত ৪ মে সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা কোম্পানির নির্মাণকাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো সমস্যার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কিন্তু পরদিন বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার স্তুপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই বাংলাদেশি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে রবিনের লাশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরের দিকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। একই দিন বাদ মাগরিব জানাজা শেষে কালাই গোবিন্দপুর পারিবারিক কবরস্থানে রবিনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিহত রবিনের ভাতিজা পাভেল বলেন, ‘এবার কাকাকে বিমানবন্দর থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে বাড়িতে নিয়ে আসার স্বপ্ন ছিল আমাদের। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। কফিনবন্দি অবস্থায় বিমানবন্দর থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। কখনও কল্পনাও করিনি এভাবে কাকাকে রিসিভ করতে হবে।’

পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম। তিন সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে তিনি বলেন, ‘এখন আমি সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব?’

নিহত রবিনের বড় ভাই খোকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। সব গুছিয়ে খুব শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল ওর, কিন্তু ফিরল নিথর দেহে। তাঁর নাবালক দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই ভাবছি।’

আরও পড়ুন

×