বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অচল
আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান শিক্ষকদের
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:৩০ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ১২:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে গতকাল বুধবার বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন উপাচার্য। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষকরা। তারা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এক দফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচির তৃতীয় দিন গতকাল বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়টি অচল ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৪ জন শিক্ষক অধ্যাপক, ৩০ জন সহযোগী অধ্যাপক এবং ছয়জন সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
পদোন্নতির দাবিতে গত সোমবার থেকে ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। এ কারণে পাঠদান, পরীক্ষা, প্রশাসনিকসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে এ পর্যন্ত ৩২টি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। চলমান শাটডাউনে আরও ১১টি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল দুপুর সোয়া ১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানান। তিনি বেলা ৩টায় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে উপাচার্য লেখেন, ‘পদোন্নতি-সংক্রান্ত যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা করার লক্ষ্যে আজ বিকেল ৩টায় আপনাদের সঙ্গে একটি সভা করতে ইচ্ছুক। আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।’
বৈঠকের প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি, উনার সঙ্গে তাই কোনো আলোচনা নয়। শিক্ষকরা আলোচনায় রাজি নন। উপাচার্য ক্ষমতা খাটিয়ে শিক্ষকদের গোপনীয় তথ্য ফাঁস করছেন। এখন শিক্ষকদের মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি।’
ড. জামাল বলেন, ‘অবাঞ্ছিতের অপর পিঠ হলো পদত্যাগের এক দফা। আমরা হয়তো সেদিকেই যাচ্ছি।
কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ড. হাফিজ আশরাফুল হক একই কথা জানিয়ে বলেন, ‘উপাচার্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা পাঠিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছেন। শিক্ষকরা বলছেন, উনার সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন না।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘পদোন্নতি-সংক্রান্ত যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের একটি নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়তো সবাই পাননি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বৈঠক করার জন্য রাতে আরেকটি নোটিশ দিবো।’
তিনজন শিক্ষকের তথ্য ফাঁস হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পদোন্নতিজনিত ওই ফাইল উপাচার্যের কার্যালয়ে এসেছিল ডিসেম্বরে। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর ফাইল রেজিস্টার কার্যালয়ে চলে যায়। তাই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
