ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক স্ত্রীর মামলা, যুবক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ২২:১০ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১৪:০১
সাবেক স্ত্রীর করা মামলায় তওসিকুল ইসলাম বিশ্বাস নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে যশোরের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তনিম শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার বিশ্বাসপাড়ার মৃত ওহিদুল বিশ্বাসের ছেলে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতয়ালি থানার পরির্দশক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত তওসিকুল ইসলাম বিশ্বাস (তনিম বিশ্বাস) তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর তনিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি জানতে পারেন, তনিমের বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ এপ্রিলের পর থেকে তনিম প্রায়ই রাতে বাড়ির বাইরে থাকতেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। গত ৩ মে রাতেও তিনি বাড়িতে এসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরদিন ৪ মে তনিম জানান, তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন। এ সময় তার হাতে একটি কাগজ তুলে দেওয়া হয়, যেখানে দেখা যায় ২৬ এপ্রিল তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। পরে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য তাকে মারধর করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, তনিম কারাগারে থাকার সময় তার পেছনে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি আরও একটি বিয়ে করেন। এছাড়া ওষুধ ব্যবসার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও র্যাব-৬ (যশোর ক্যাম্প) জানায়, এর আগে ২০২১ সালে চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মুখে অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় আগের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে ২০২২ সালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক।
সিটিটিসি ও র্যাব-৬ আরও জানায়, তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের যশোর জেলা কমান্ডার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। দুই বছর কারাভোগের পর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। সর্বশেষ সোমবার রাতে তাকে আবারও নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যশোর কোতয়ালি থানার পরির্দশক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, তানিমের বিরুদ্ধে তার তালাকপ্রাপ্ত সাবেক স্ত্রী ধর্ষণের মামলা করেছেন। সেই মামলার তাকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- ধর্ষণের অভিযোগ
- গ্রেপ্তার
- আনসার আল ইসলাম
