ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা

‘আমাকে বাঁচাও, আমাকে মেরে ফেলবে’, ফোনে স্ত্রীকে বলেছিলেন হানিফ

‘আমাকে বাঁচাও, আমাকে মেরে ফেলবে’, ফোনে স্ত্রীকে বলেছিলেন হানিফ
×

হানিফ মিয়া

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ২৩:৫২

বুধবার রাত ১২টায় কাঠব্যবসায়ী হানিফ মিয়া (৩৪) তার স্ত্রী আয়েশা বেগমকে ফোনে বলেন, ‘আমাকে বাঁচাও, জাকির হোসেনসহ তার সহযোগীরা আমাকে মেরে ফেলবে। এমন একটি খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত একই এলাকার লসকর মিয়ার বাড়িতে ছুটে গেলেও বাড়ির সব গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে থানা পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লসকর মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে প্রায় দেড়শ ফুট দূরে একটি পতিত ধানের জমি থেকে হানিফ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জে কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে। নিহত হানিফ মিয়া ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার টুকু মিয়া বাড়ির মো. ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের মা, বাবা, বোন ও স্ত্রীসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। 
 
কুলিয়ারচর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরীফ উদ্দিন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কি কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাকিরকে না পেয়ে তার পরিবারের ৫ সদস্যকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লসকর মিয়ার ছেলে মো. জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হানিফ তার স্ত্রী আয়েশার মোবাইল ফোনে তাকে মারধরের বিষয়টি অবগত করে।
  
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত জাকিরের বাবা লসকর মিয়া পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে অভিযুক্ত জাকির হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ জাকির হোসেনের মা, বাবা, বোন ও স্ত্রীসহ মোট পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজিত জনতা লসকর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ভবনের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি মোটরসাইকেলেও আগুন লাগতে দেখা যায়।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ফরিদপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ করতেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। 

নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম সমকালকে বলেন, আমার স্বামী বাঁচার জন্য আমাকে ফোন করে। জাকির আমার স্বামীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। আমার স্বামী অনেক আকুতি-মিনতি করেও বাঁচতে পারেনি। আমি অভিযুক্তদের ফাঁসি চাই।
 
নিহতের বাবা ইব্রাহীম মিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা গিয়েও ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। তারা বাড়ির গেইট বন্ধ করে রেখেছিল। অনেকবার বলার পরেও গেইট খুলেনি। রাতে কোন এক সময় আমার ছেলেকে বাড়ির ভিতরে মেরে ফেলেছে। পরে মরদেহ নিয়ে বাড়ির পাশে একটি পতিত জমির গর্তে ফেলে রাখে। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আমি দোষীদের ফাঁসি চাই।

আরও পড়ুন

×