ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

গাজীপুরে ৫ হত্যাকাণ্ড

পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘আত্মহত্যা’ মূল অভিযুক্তের

১১ মে ঝাঁপ দেন, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের দাবি

পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘আত্মহত্যা’ মূল অভিযুক্তের
×

ফোরকান মোল্লা

 গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৭:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরে ৩ মেয়ে, স্ত্রী ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।  

পুলিশের দাবি সত্যি হলে গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর পাঁচ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী ছিল তা শেষ পর্যন্ত অজানাই থেকে যেতে পারে। ওই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। 
পুলিশ সুপার জানান, ওই হত্যাকাণ্ডের পর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তিনটি দল তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গত সোমবার (১১ মে) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মেহেরপুর সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাকের চালকের সহকারীর কাছ থেকে ফোরকান মোল্লার মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। তদন্তে জানা যায়, ওইদিন সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে ফোনটি পড়ে থাকতে দেখেন ট্রাকচালকের ওই সহকারী। পরে ফোনটি তিনি কুড়িয়ে নিয়ে এলাকায় চলে যান। 

পুলিশ সুপার বলেন, পরে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নামেন। সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি রেলিং টপকে নদীতে ঝাঁপ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যদিও নিহতের স্বজনরা ফুটেজ দেখে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটি ফোরকান কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে তারা জানিয়েছেন ব্যক্তিটি দেখতে ফোরকানের মতোই। মোবাইল ফোন কুড়িয়ে পাওয়া ও ঝাঁপ দেওয়ার স্থান একই হওয়ায় পুলিশের জোরালো ধারণা, ওই ব্যক্তিই ফোরকান মোল্লা। তবে নদীতে ঝাঁপ দিলেও তিনি জীবিত না মৃত তা এখনও জানা যায়নি। মরদেহ পাওয়া গেলেও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ওই দিন পল্টন থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নেন ফোরকান মোল্লা। তাকে পদ্মা নদীর ওপারে নামিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুর মাঝখানে যাওয়ার পর ফোরকান গাড়ি থামাতে বলেন। এক পর্যায়ে চালক গাড়ি থামালে ফোরকান ভাড়া দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। পরে চালক প্রাইভেটকার নিয়ে চলে যান। গাড়িটি শনাক্ত করে গতকাল চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিই এসব তথ্য দেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা সদরের দুই কিলোমিটার দক্ষিণে রাউৎকোনা পূর্বপাড়া গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের দোতলা বাড়ির নিচতলায় ভাড়ায় বসবাস করতেন ফোরকান মোল্লা, তাঁর স্ত্রী ও তিন কন্যা। 
গত শুক্রবার রাতে ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন মেয়ে মীম খানম, উম্মে হাবিবা ও ফারিয়ার রক্তাক্ত নিথর দেহ। একটু দূরেই খাটের ওপর পড়ে ছিল তাদের মামা রসুল মোল্লার মরদেহ। পাশের একটি কক্ষে জানালার গ্রিলের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল ওই তিন শিশুর মা শারমিন আক্তারের প্রাণহীন দেহ। 
এ হত্যাকাণ্ডে পর ফোরকান নিজেই ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদরে মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। নিহত শারমিন ও তাঁর ভাই রসুল মোল্লা একই জেলার পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার সন্তান।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, মরদেহ পাঁচটির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, চার জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আর ছোট মেয়ে ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×