যশোরে পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শূন্যে ঘুরছেন ২ যুবক, হাজারো দর্শনার্থীদের ভিড়
যশোর অফিস
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৫:০৯
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামে মশিহাটি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ধর্মদেউল পূজা উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার ঐতিহ্য হিসেবে পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শূন্যে ঘোরানো হয় দুই যুবককে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই পূজা স্থানীয় ভক্তবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
পহেলা জ্যৈষ্ঠ (পঞ্জিকা মতে) প্রতিবছরই এই চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন বিকেলে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শূন্যতে মানুষকে ঘোরানো হয়। এ সময় হিন্দু অধ্যুষিত অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরা ও নড়াইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষজন এ চড়ক পূজা ও মেলা দেখতে ভিড় করেন। পূজা উপলক্ষ্যে মাঠে বসে বিশাল গ্রামীণ মেলা। সেখানে নাগরদোলা, চরকি, মুখরোচক খাবারসহ বিভিন্ন দোকানগুলো বসে। দিনভর উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
পূজায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত একাধিক সন্ন্যাসীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে টাঙ্গাইল থেকে আগত সন্ন্যাসী দল নানাবিধ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিবেশন করে ভক্তদের মুগ্ধ করে। চড়ক ও ধর্মদেউল পূজার ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি ভিন্ন মাত্রা পায়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মশিহাটি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী বিল্টু বিশ্বাস ও সম্প্রীতি বিশ্বাস, নিজ নিজ শরীরের পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে চড়কগাছের চারপাশে ঘূর্ণায়মান হয়ে অংশগ্রহণ করেন, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। এর আগে নানা ধরনের ধর্মীয় নাচ গান অনুষ্ঠিত হতে থাকে মাঠ জুড়ে। এছাড়া সন্ন্যাসীদের বক্তব্যে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সবুজ মণ্ডলের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ধর্মীয়নেতা শ্যামল কান্তি সিংহ, মনোজিৎ বালা ও হেমান্ত বৈরাগী প্রমুখ।
আয়োজকদের তথ্যমতে, মশিহাটিতে এই ধরনের ব্যতিক্রমী ধর্মদেউল পূজা তিন উপজেলার মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেয়। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে অভয়নগর উপজেলা, কেশবপুর উপজেলা, যশোর সদর ও মনিরামপুর উপজেলা থেকে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি ভক্ত।
স্থানীয় সাংবাদিক প্রিয়ব্রত ধর জানান, শরীরের মধ্যে বড়শি বিঁধিয়ে চরকিতে ঘোরার বিষয়টি শুনলেই গা শিউরে ওঠে। এই খেলাটা আবার অনেক এলাকায় হয় না। তাই, পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি। পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে বেশ কয়েকবার ঘোরানো হয়। এটা অবাক করার মতো বিষয়।
- বিষয় :
- যশোর
