ফ্যামিলি কার্ডের অপেক্ষায় ৫০ হাজার পরিবার
এম. এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুসারে চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে দেশের ১৪টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী মাস থেকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও বাহুবলে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। এমপি রেজা কিবরিয়ার বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এরপর থেকেই কাঙ্ক্ষিত ফ্যামিলি কার্ডের আশায় আছেন নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষ।
তবে বাস্তবে এখনও কার্ড হাতে না পাওয়ায় প্রায় ৫০ হাজার অপেক্ষমাণ উপকারভোগীর পরিবার অপেক্ষা করছেন কখন আসবে এই কাঙ্ক্ষিত কার্ড। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অসহায় পরিবারগুলোর নারীরা ফ্যামিলি কার্ডের খোঁজে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন। কারও হাতে আবেদনপত্র, কারও হাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, কারও হাতে ফটো, এই নিয়ে ব্যস্ত তারা। প্রত্যাশা একটাই, কবে মিলবে কার্ড? কিভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে সেই পথ খুঁজছেন অনেকেই। তারা বলছেন, এখনও সুনির্দিষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি গ্রামের মানুষকে কীভাবে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।
বর্তমান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শিগগিরই প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এই ঘোষণায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারগুলো। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কাঙ্ক্ষিত এই সহায়তার জন্য।
সরেজমিন বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন জমা কীভাবে দিতে হবে জানেন না। কেউ কেউ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে এখনও হাতে কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া পৌঁছেনি।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ইউনিয়নে বহু নিম্নআয়ের পরিবার এই কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, ফ্যামিলি কার্ড পেলে খাদ্য নিরাপত্তায় কিছুটা স্বস্তি মিলবে।
দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য আব্দুল মুকিত বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়নি। নির্দেশনা আসলে যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা হবে। কার্ড বরাদ্দ পেলেই বিতরণ শুরু করা হবে।
সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ডা. এম. জেড এ জাহিদ হোসেন বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবে সরকার। কার্ডের নামে কেউ টাকা চাইলে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দিন। আরও বলেন, উপকারভোগীদের সংগৃহীত সব তথ্য সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে যে ব্যাংক থেকে গ্রাহক টাকা তুলতে চান সেই ব্যাংক থেকেই তা তুলতে পারবেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি ঘোষণার প্রতিফলন কবে নাগাদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে হাজারো অসহায় পরিবার।
দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহরিয়াজ সুমন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য এখনও কোনো নির্দেশ আসে নাই। আশা করছি শিগগিরই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা চাই, কেউ যেন বাদ না পড়ে। আউশকান্দি ইউনিয়নের সদস্য দিলশাদ মিয়া বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্ড বিতরণের আশা করছি। ইউনিয়নের বহু পরিবার এই সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।
ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, আমরা একটি চিঠি পেয়েছি প্রথমে দেশের মধ্যে ১৪ উপজেলার ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক প্রাথমিক কাজ শুরু করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সরকারের ঘোষণার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং যোগ্য পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ অপেক্ষমাণ পরিবার দিন আনে দিন খায় অবস্থায় রয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ফ্যামিলি কার্ড তাদের কাছে এটি খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা।
- বিষয় :
- ফ্যামিলি কার্ড
