কক্সবাজারে খামারে চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনা
ক্রেতাদের নজর কাড়ছে ‘কালো মানিক’
ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৮:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কক্সবাজারে এখনও মৌসুমি গবাদি পশুর হাট না বসলেও খামারি পর্যায়ে চলছে গরুসহ বিভিন্ন পশু বেচাকেনা। খামারগুলোতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর আনাগোনা বেড়েছে। এবার কোনবানির জন্য জেলায় যে সংখ্যক গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে, তার বেশিই জোগান আছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে গরু আসার কারণে দেশীয় গরুতে রোগবালাই সংক্রমণের পাশাপাশি খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিন দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন জাতের গরু রাখা হয়েছে মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্ম নামে একটি খামারে। কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ খামারে রয়েছে বিভিন্ন জাতের আকর্ষণীয় গরু। শাহিওয়াল, ডাবসি ও দেশি জাতের অন্তত ৪০টি গরু এবারের কোরবানির বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খামার মালিক। এগুলোর মধ্যে নজর কাড়ছে কালো মানিক, টাইগার, বাহুবলি, শাহেনশাহ, কালাবাহাদুর, বুলেট কিং, ডেঞ্জার লালুসহ বিভিন্ন নামের কয়েকটি গরু।
৮ বছর আগে শুরু করা এই খামারে গাভী, ষাঁড়সহ শতাধিক গরু আছে। কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণের ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহার করা হয় না বলে জানা গেছে। গরুগুলোকে খাবার হিসেবে শুধু ঘাস, ভুষি, খৈলসহ সাধারণ উপকরণ দেওয়া হয়। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বেশি নজর কাড়ছে কালো মানিক। বিশেষ যত্নে পালা ১৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এই গরুর ওজন ২২ মণের বেশি। এর দাম হাঁকানো হয়েছে ৮ লাখ টাকা।
মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্মের মালিক নুরুল ইসলাম জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। খাবারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে গরুপ্রতি খরচও অনেক বেশি। খামারটির কোরবানিযোগ্য গরুগুলোর দাম ২ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কালো মানিকের দাম ইতোমধ্যে ক্রেতাদের কেউ ৫ লাখ, কেউ ৬ লাখ; বিশেষ যত্নে পালন করা এসব গরু এবার কোরবানির বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মন খারাপ লাগার কথা বলছেন শ্রমিকরা। খামারে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থী কেউ কেউ দর জানছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় এবার কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯৫টি। খামারগুলোতে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা পশু আছে
১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি। জেলায় এবার কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য স্থায়ী ও মৌসুমি হাটবাজার ৫৬টি। এদিকে হাটে বিক্রির জন্য আনা গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অসুস্থতার চিকিৎসা দিতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ২৭টি মেডিকেল টিম।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে খরচ বেড়েছে বলে খামারিরা বলছেন। আমরা খামারিদের পরামর্শ দিয়েছি কাঁচা ঘাস ও খড় বেশি পরিমাণে খাওয়ানোর জন্য। এতে খরচ কমবে।’
- বিষয় :
- গরু
