কাঁকড়া ধরতে গিয়ে গুলিতে নিহত জেলে, অভিযোগ বনরক্ষীর বিরুদ্ধে
প্রতীকী ছবি
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১৬:৫৯ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ | ১৭:৪৮
পশ্চিম সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে আমিনুর রহমান (৪৫) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে খুলনা রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পাটকোস্টার ঝিল এলাকায় কাঁকড়া ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
এ দিকে ক্ষুব্ধ বনজীবীদের হামলায় ফরেস্ট গার্ড ফাইজুল হকসহ তিন বনরক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জেলেদের সহযোগীদের অভিযোগ, বনবিভাগের টহল টিমের সদস্যদের ডাকে সাড়া না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন জেলেরা। এ সময় বনবিভাগের টহল টিমের ছোড়া গুলিতে আমিনুর নিহত হয়েছেন।
নিহত আমিনুর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের মৃত আকছেদ আলী গাজীর ছেলে।
আমিনুরের সহযোগী জেলে আহম্মদ মোড়ল জানান, তিনদিন আগে বনবিভাগের অনুমতিপত্র নিয়ে দুটি নৌকায় চারজন জেলে সুন্দরবনে যান কাঁকড়া শিকার করতে। সোমবার সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোসটার ঝিলে এলাকায় (অভয়ারণ্য) নৌকায় বসে তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। একপর্যায়ে সকাল সাতটার দিকে পার্শ্ববর্তী টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা পেছন থেকে ডাক দেন। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে ওই টিমের সদস্যরা এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে আমিনুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে মরদেহ নিয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসেন।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে কাঁকড়া শিকারে যাওয়া জেলেদের ওপর বনবিভাগের টহল টিমের সদস্যরা গুলি ছুঁড়েছেন। সে ঘটনায় আমিনুর নামে এক জেলে নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বনজীবীরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন ও তদসংলগ্ন রেঞ্জ কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জলদস্যুরা গোটা সুন্দরবনজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও বনবিভাগ বা কোস্টগার্ড তাদের টিকিটি পর্যন্ত ছুঁতে পারছে না। অথচ নিরীহ জেলেদের ওপর গুলি চালিয়ে লাখ লাখ বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশে পরোক্ষভাবে ভীতি ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান চলছে। প্রকৃতপক্ষে কাদের গুলিতে ওই জেলের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

জেলে নিহতের ঘটনাটি খুলনা রেঞ্জে ঘটেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিম পরিচালনার কথা জেলেদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমিনুর রহমানের নিহতের ঘটনার সঙ্গে বনরক্ষী কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
এ দিকে বনরক্ষীদের গুলিতে জেলে আমিনুরের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আজ বিকেল চারটার দিকে দুই শতাধিক বনজীবী দলবদ্ধ হয়ে বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও পার্শ্ববর্তী বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসে হামলার চেষ্টা করেন। কয়েক মিনিট ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের পরপরই শ্যামনগর থানা-পুলিশ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্যামনগর থানার ওসি খালিদুর রহমান বলেন, বার বার আহ্বান জানিয়ে বিজিবির সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আহত তিন বনরক্ষীকে স্পিডবোর্ডে ভিন্ন পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানান, গুলিতে এক বনজীবী নিহতের ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরইমধ্যে নিহত আমিনুরের মরদেহ এলাকায় পৌঁছেছে। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- সাতক্ষীরা
- গুলিতে নিহত
- জেলে
