ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নিকলীর গোপী রায়ের হাট

আড়াই কোটি টাকা কমে গরুর হাটের ইজারা

আড়াই কোটি টাকা কমে গরুর হাটের ইজারা
×

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে একটি গরুর হাট ১৪৩৩ সনের জন্য এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছে প্রশাসন। অথচ ১৪৩২ সনে হাটটি তিন কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ইজারাদার অজ্ঞাত কারণে এবার ডাকে অংশ নেননি। গতবারের তুলনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা কমে এবার ইজারা পেয়েছেন নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকারম সরদার। এ নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এতে সরকার এবার বিপুল পরিমাণের রাজস্ব হারাতে পারে।
গোপী রায়ের হাট নামে পরিচিত হাটের 

অবস্থান উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের আঠারবাড়িয়া এলাকায়। গত বছর এই হাট তিন কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন পাশের সাজনপুর গ্রামের জমসেদ আলী। তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হাটটির প্রসার দিনদিন বাড়ছে। আগে আওয়ামী লীগের লোকজন সিন্ডিকেট করে এটি ইজারা নিতেন। বাজার প্রতিষ্ঠার পর থেকে 
১৪৩১ সন পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা ইজারার রেকর্ড আছে। অথচ এখানে বুধবারের সাপ্তাহিক হাটে দুই হাজারের মতো গবাদি পশু বিক্রি হয়। প্রতিটি গরুর বা মহিষ বিক্রি হলে ক্রেতা ৩০০ ও বিক্রেতা ৩০০ টাকা হাসিল দেন। ছাগল বিক্রি হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা ১৫০ টাকা করে হাসিল দেন। 

জমসেদ আলী জানান, প্রতি হাটে প্রায় ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় হয়। বছরে আদায় হয় প্রায় ছয় কোটি টাকা। হাটের আয় দেখে জমসেদ আলীই প্রথম ১৪৩২ সনে তিন কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকায় ইজারা নেন। এর পরও তিনি মোটা টাকা আয় করেছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু নানা কারণে ১৪৩৩ সনের ইজারা ডাকে অংশ নেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় গোপী রায়ের হাট ইজারা পেয়েছেন নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকারম সরদার। কীভাবে তিনি গতবারের তুলনায় দুই কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা কমে ইজারা পেয়েছেন, জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিয়েও সংযোগ মেলেনি। 

এই হাটের জন্য কতজন দরপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেই সংখ্যা বা দরপত্র কবে ডাকা হয়েছিল, সুনির্দিষ্টভাবে এসব তথ্য জানাতে পারেননি নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি। এত কম দামে হাটের ইজারা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর আগে তো ২৫ লাখ টাকায়ও ইজারা হতো। এবার যে ক’জন দরপত্র জমা দিয়েছিলেন, এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক কোটি ২৫ লাখ টাকার দরপত্রদাতাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।’
গত বছর প্রায় পৌনে চার কোটি টাকায় ইজারা হয়েছিল, এবার কম ইজারা মূল্যের দরপত্র জমা পড়ায় পুনঃদরপত্রের সুযোগ ছিল কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে জানাব।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিনের ভাষ্য, কী কারণে এত কম মূল্যে হাটটি ইজারা দেওয়া হলো, এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

×