ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সুন্দরবনে গুলিতে জেলে নিহত অভিযোগ বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে

সুন্দরবনে গুলিতে জেলে নিহত অভিযোগ বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে
×

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর সমকাল

 শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিম সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে আমিনুর রহমান নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে খুলনা রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পাটকোস্টার ঝিল এলাকায় কাঁকড়া ধরার সময় বন বিভাগের টহল টিমের ছোড়া গুলিতে আমিনুর নিহত হন বলে অভিযোগ তাঁর সহযোগীদের। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ বনজীবীরা সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় পাঁচ বনরক্ষী আহত হয়েছেন।

বনজীবীরা বলছেন, বন বিভাগের টহল টিমের সদস্যদের ডাকে সাড়া না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় পেছন থেকে গুলি ছুড়ে আমিনুরকে হত্যা করা হয়েছে। তিন সন্তানের জনক আমিনুরের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামে। হামলায় আহত বনরক্ষীরা হলেন এফজি মেজবা, ফয়জুল হক, তপন, এখলাছুর ও ফারুক হোসেন। 

আমিনুরের সহযোগী জেলে আহম্মদ মোড়ল জানান, তিন দিন আগে বন বিভাগের পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি নৌকায় তারা চারজন সুন্দরবনে যান কাঁকড়া শিকারের জন্য। সোমবার সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্টার ঝিল এলাকায় (অভয়ারণ্য) নৌকায় বসে তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা পেছন থেকে ডাক দেন। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে ওই টিমের সদস্যরা এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে আমিনুরের মৃত্যু হয়। দুপুর ১টার দিকে মৃতদেহ নিয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসেন।
বনরক্ষীদের গুলিতে জেলে আমিনুরের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেল ৪টার দিকে দুই শতাধিক বনজীবী দলবদ্ধ হয়ে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে হামলা করে। কয়েক মিনিট ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সীমানা বেড়া ভাঙচুরের পর শ্যামনগর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, শুরুতে বিজিবির সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। সেই সুযোগে রেঞ্জ অফিসের কিছু অংশ ভাঙচুরসহ কয়েকজন বনরক্ষীকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের বিকল্প পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।  

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে কাঁকড়া শিকারে যাওয়া জেলেদের ওপর বন বিভাগের টহল টিমের সদস্যরা গুলি ছুড়েছেন। জেলে আমিনুর নিহত হওয়ায় স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জলদস্যুরা সুন্দরবনজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও বন বিভাগ বা কোস্টগার্ড তাদের ধরতে পারছে না। কিন্তু নিরীহ জেলেদের ওপর গুলি চালিয়ে লাখ লাখ বনজীবীর মাঝে ভীতি ছড়াচ্ছে। 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান চলছে। কাদের গুলিতে ওই জেলের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় বনরক্ষী কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে আইনের আওতায় আনা হবে। 
শ্যামনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক জানান, গুলিতে এক বনজীবী নিহতের ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অপরাধী যেই হোক তাঁকে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×