ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মিঠামইন-অষ্টগ্ৰাম

এখনও পানির নিচে অনেক ক্ষেত

রবি ও সোমবার দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়

এখনও পানির নিচে অনেক ক্ষেত
×

রবি ও সোমবার দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় মিঠামইন ও অষ্টগ্ৰাম উপজেলার বিভিন্ন হাওরের প্রায় ৫০ একর জমি ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা - সমকাল

 মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ০৯:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মিঠামইন ও অষ্টগ্ৰাম উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৫০ একর জমি এখনও পানির নিচে। হাওরের সড়কগুলোও তলিয়ে আছে। ধান কাটার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। গত রবি ও সোমবার দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। গতকাল মঙ্গলবার বৃষ্টি না হলেও পরিস্থিতি আগের মতো রয়েছে। ডুবে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তোলার আর কোনো সুযোগ নেই।
যেসব কৃষক জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছিলেন, তারা এখন পাগলপ্রায়। ঋণ করে জমি চাষ করেছিলেন। আশা ছিল ভালো ফলন হবে, ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন। সারা বছরের খোরাক জোগাড় করবেন। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।

মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়ার শরিফ ঠাকুর নামের একজন আদর্শ কৃষক জানান, বেরি বিলে এক একর ৫০ শতাংশ ও কড়কইরা বিলে ৫০ শতাংশ জমি চাষ করেছেন। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘দুদিনের মেঘে যে ক্ষেতগুলো ভাসা অছিন, হেই ক্ষেত অহন কমরপানির তলে গেছে গা, আর আশা নাই। গরুরও খাওন নাই। গরু বেইচ্চা নিজে খামু, না ঋণ দিমু?’ তিনি একমুঠ ধানও ঘরে তুলতে পারেননি বলে জানান। 

আরেক কৃষক মামুন মিয়া ফোরদিঘা হাওরে ৫০ শতাংশ জমি চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এক শতাংশ জমি কাটতাম পারছি না। আমার ক্ষেত অহনো এক হাত পানির তলে। আমার পাঁচটা গরু, গরুরও বন নাই। ঈদের আগে বেইচ্চা ঋণ দিমু। ডাহা যাওন ছাড়া কোনো গতি নাই।’

আরেক কৃষক আঙ্গুর মিয়া বাজারে পিঠা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘ঋণ কইরা বেহির হাওরে তিন খানি ক্ষেত করছিলাম, সব পানির তলে। এক খের ক্ষেত কাটছিলাম। হেইডাও ধান হুগানির অভাবে নষ্ট হইছে। খোরাকির লাগি ধান সিদ্ধ করছিলাম। হুগাইতাম পারছি না মেঘের লাগি। অহন দেশ ছাড়ন ছাড়া কোনো উপায় নাই। বাহি ক্ষেত অহনো পানির তলে। ঋণ দিবারও ক্ষমতা নাই। ঈদ আইছে। পুলাপাইনরে কী বুঝ দিমু?’ এ রকম ছোট-বড় অনেক কৃষক রয়েছেন যাদের অর্ধেক জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকের নাম ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় নেই। অনেক নেতা তাদের আত্মীয়স্বজনের নাম তালিকায় দিয়েছেন বলে পূর্ব অষ্টগ্রামের কৃষক মনু মিয়া অভিযোগ করেন। তিনি বড় হাওরের কৃষক। তাঁর জমি পানির নিচে, অথচ নাম নেই।

হাওরের কৃষকরা জানান, যেসব জমি এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে, সেগুলো আর কাটা যাবে না। মাছের খাবার হয়েছে। এগুলো পানির নিচ থেকে কেটে আনলে গরুও খাবে না, জ্বালানির কাজেও ব্যবহার করা যাবে না।

অনেক কৃষকের হাওরে পাতিহাঁসের খামার রয়েছে। তারা জানান, হাঁস পালনের জন্য তারা ধানের জমি চাষ করে থাকেন। কিন্তু এ বছর ধান পানির নিচে থাকায় হাঁসও পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মিঠামইন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম অপু বলেন, হাওরে ধান কাটা প্রায় শেষ। সামান্য পরিমাণে পানিতে তলিয়ে রয়েছে, সেগুলো আর কাটা সম্ভব নয়। শ্রমিকও নেই, হারভেস্টারও নেই। এ রকম জমির সংখ্যা একেবারে কম। আবহাওয়া ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম হয়নি।

আরও পড়ুন

×