ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিক্ষকের গলায় চাপাতি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি

শিক্ষকের গলায় চাপাতি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি
×

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৮:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

পূর্বশত্রুতার জেরে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক শিক্ষকের গলায় চাপাতি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের আস্কর বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিমল মল্লিক (৪৫) একই রাতে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আস্কর গ্রামের সুধীর রঞ্জন মল্লিকের ছেলে বিমল মল্লিক একই ইউনিয়নের নাঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর স্ত্রী রিতা বৈদ্য আস্কর কালিবাড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। গত সোমবার উপজেলায় ৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে পুরুষ ক্যাটেগরিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হন বিমল মল্লিক। 

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্ত্রীর জন্য ওষুধ কিনতে আস্কর বাজারে যাচ্ছিলেন বিমল মল্লিক। পথে একই এলাকার প্রভাবশালী বিকাশ অধিকারী তাঁকে গালাগাল শুরু করেন। একপর্যায়ে গলায় চাপাতি ধরে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অপর শিক্ষক দীপক অধিকারীর সাহায্য চান বিমল। দীপক এগিয়ে আসেননি। তবে পলাশ সাহা এগিয়ে এসে বিকাশের হাত থেকে বিমলকে রক্ষা করেন। তিনি বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী অচিন্ত্য বাড়ৈয়ের দোকানে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়েও বিকাশ হামলার চেষ্টা করেন। পরে বিমল মল্লিক দৌড়ে নিজ বাড়িতে যান।

গতকাল বুধবার বিমলের স্ত্রী প্রভাষক রিতা বৈদ্য বলেন, ‘এই বাজারের মন্দিরে আমরা প্রতিদিন আসি। আজকে (বুধবার) আসতে পারিনি। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।’
অধিকারী বংশের সঙ্গে মল্লিক বংশের পুরোনো বিরোধ রয়েছে বলে জানা যায়। তবে সরাসরি বিমল মল্লিকের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। বিমল মল্লিক বলেন, ‘কেন আমাকে গালাগাল করে গলায় চাপাতি ধরে বিকাশ হত্যার হুমকি দিলেন, কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে অতীতে একই বংশের পরিমল অধিকারী আমার ওপর হামলা করেছিলেন, বিকাশ কলেজ মিলনায়তনে ঢুকে আমার স্ত্রীকে গালাগাল করেছিলেন। এমনকি আস্কর কালী মন্দিরে আমার আয়োজনে মাসিক কালীপূজা চলার সময়ও গালাগাল করে মন্দির থেকে বের করে দিয়েছিলেন বিকাশ।’

প্রভাবশালী হওয়ায় বিকাশের বিরুদ্ধে সরাসরি কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে ওষুধ ব্যবসায়ী অচিন্ত্য বাড়ৈ বলেন, ‘সোমবার রাতে শিক্ষক বিমল মল্লিক আমার দোকানে আসেন। কিছুক্ষণ পরে বিকাশ অধিকারীও আসেন। আমি পাশের দোকানে পণ্য মাপতে যাই। আর কিছু জানি না।’
সমীরণ অধিকারী নামের এক ব্যক্তি মঙ্গলবার বলেন, ‘আমি গতকাল (সোমবার) রাতে বিকাশ অধিকারীকে মন্দিরের পিলারের সঙ্গে চাপাতি ধার দিতে দেখেছি।’ একই গ্রামের রঞ্জিত মল্লিক বলেন, মঙ্গলবার সকালে একই এলাকার সর্বানন্দ অধিকারীকে বলতে শুনেছেন, ‘বিমল মল্লিককে কোপাইলি না কেন? তুই (বিকাশ অধিকারী) কুপিয়ে আমাকে খবর দিতি।’
বক্তব্য জানতে বিকাশ অধিকারীর মোবাইল ফোনে আট দফায় কল দিলেও ধরেননি। তাঁর বাড়িতে গিয়েও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। লিখিত অভিযোগটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘শিক্ষক বিমল মল্লিকের অভিযোগের পর সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত চলমান। শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন

×