ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জমে উঠেছে কোরবানির হাট চাহিদা মাঝারি, নজর বড়তে

জমে উঠেছে কোরবানির হাট চাহিদা মাঝারি, নজর বড়তে
×

হবিগঞ্জ শহরের যশোরআব্দা এলাকায় বসেছে নগরীর সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট- সমকাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হবিগঞ্জে জমে উঠেছে গরুর বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন জাতের পশু নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। আর তাতে আগ্রহও বেশ ক্রেতাদের। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার হাটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। 
শুক্রবার সকাল থেকে শহরের যশোরআব্দা এলাকায় শুরু হয় সবচেয়ে বড় গরুর বাজার। ২য় দিন অনুষ্ঠিত এই হাটে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। এর মধ্যে বড় আকৃতির কয়েকটি গরু ক্রেতাদের নজর কাড়ে। 

বিকেলে হাট ঘুরে দেখা যায়,  হাটজুড়ে ছিল গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের পশু। ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে পশুর দাম নিয়ে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ক্রেতারা পশুর দাম-দর করলেও বেচাকেনা তেমন জমে উঠেনি। অধিকাংশ ক্রেতা মাঝারি আকৃতির গরুর দাম হাঁকলেও তাদের চোখ জুড়াচ্ছে বড় আকৃতির পশুগুলো। যাদের এক একটির দাম বিক্রেতারা হাঁকছেন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে। অন্যান্য বছরের তুলনায় ভারতীয় গরু এখনও পর্যন্ত দেশে না আসায় দেশীয় গরুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। চাহিদার সঙ্গে দামটাও অন্যান্য বছরের চেয়ে কম বলছেন বিক্রেতারা।
তবে ছোট ও মাঝারি আকারের পশুর চাহিদা বেশি বাজারে। হাটে উমেদ নগরের তুহিন মিয়া, তেঘরিয়ার কিবরিয়া মহালদার ও মোহাম্মদী এন্টারপ্রাইজের গরুগুলো নজর কাড়ছে সবার। তাদের খামারে পালন করা বড় আকৃতির কয়েকটি গরু ক্রেতাদের নজর কাড়ে।

বিক্রেতা তুহিন মিয়া জানান, তিনি হাটে ৬টি গরু নিয়ে আসেন। যার মধ্যে ২০ মণ ওজনের বড় গরুটির দাম হাঁকছেন ৮ লাখ টাকা। সাড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত গরুটির দাম হলেও তিনি বিক্রি করেননি। দরবেশ নামে এক গরু বিক্রেতা জানান, এখনও বাজারে গরু বেচা কেনা তেমন হচ্ছে না। তবে ক্রেতাদের সমাগম অনেক। 
কিবরিয়া মহালদার বলেন, গরুর বাজার এখন জমজমাট। ক্রেতাদের উপস্থিতিও ভালো। অনেকেই পশু দরদাম করছেন। তবে বেচা-বিক্রি এখনও জমে উঠেনি। দু’একদিন গেলেই হয়তো পশুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে। বিক্রেতারা বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গরুর বাজার জমে উঠবে। 
তবে ক্রেতারা জানান, এ বছর দাম মোটামুটি ভালো। ঈদ ঘনিয়ে আসলে কোরবানির পশু কেনা হবে। সে সময় দাম কিছুটা চড়তে পারে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গরু বেচা কেনা জমবে।
সুজন আহমেদ নামে এক ক্রেতা জানান, ঈদের এখনও বেশ কিছুদিন বাকি রয়েছে। তাই এখন গরু দেখতে এসেছেন। দামে দরে মিললে হয়তো কিনে নিতে পারেন। বাবুল মিয়া নামে এক ক্রেতা জানান, হাট ঘুরে দেখেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু এসেছে। দামও এবার হাতের নাগালেই আছে। তবে বড় আকৃতির পশুর দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। বাবুল মিয়া নামে আরেকজন ক্রেতা বলেন, মাঝারি আকারের দুটি গরু কিনেছেন তিনি। আরও দুটি কেনার ইচ্ছা আছে। 

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথম হাটের দিন গরু থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিল। দ্বিতীয় দিনের হাটে ক্রেতাদের সমাগম ঘটেছে।
অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জ, পইল গরুর বাজার, নবীগঞ্জ মেলার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাট বসেছে। এতে ক্রেতা-বিক্রোতাদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। 
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, জেলায় স্থায়ী অস্থায়ী ৩৬টি পশুর হাট বসেছে। এ বছর কোরবানির চাহিদা ৪৬ হাজার পশু। বিভিন্ন হাট ও খামার থেকেই ইতোমধ্যে পশু কেনা শুরু করেছেন ক্রেতারা। জেলায় কোরবানির জন্য ৫০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ। জাল নোট চিহ্নিতকরণে মেশিন বসানো হয়েছে। সাদা-পোশাকে টহল দেবে পুলিশ। 
 

আরও পড়ুন

×