কক্সবাজারে মহাসড়কজুড়ে পশুর হাট, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
ছবি: সমকাল
ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ২১:৫৬
ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট বসেছে মহাসড়কের দুই পাশজুড়ে। কোথাও ট্রাকভর্তি গরু নামানো হচ্ছে, আবার কোথাও সড়কের পাশেই বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা আছে শত শত পশু। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গরু আর মানুষের এই ভিড় স্থবির করে দিচ্ছে মহাসড়ক। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। যে সড়ক পার হতে সময় লাগে পাঁচ মিনিট, সেখানে লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর কলঘর বাজার এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। অন্যদিকে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খরুলিয়া, ঈদগাঁওসহ মহাসড়কের একাধিক স্থানেও গড়ে উঠেছে পশুর হাট। ফলে পণ্যবাহী ট্রাক ও পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করেই কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজার অংশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে এসব গরুর হাট। ভোগান্তি কমাতে মহাসড়ক থেকে হাট সরাতে সচেতনতা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ের ওপর জোর দিচ্ছে র্যাব। একই সঙ্গে টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী আলী আহমেদ বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাজার বসানোর কারণে যানজট লেগেই থাকে। এতে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব, সেখানে অনেক সময় তিন ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। একই পরিবহনের আরেক যাত্রী ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সরকার বারবার নির্দেশনা দিয়েছে যেন কোনোভাবেই মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট না বসে। কিন্তু ঠিকই পশুর হাট বসেছে; আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের।
হানিফ পরিবহনের চালক সৈয়দ আলম বলেন, মহাসড়কে গরুর হাট বসানো ও পশু চলাচলের কারণে পরিবহন চালাতে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সড়কে গরু উঠে আসায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং পশুর হাটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাাব-১৫। সোমবার কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার এলাকায় পশুর হাট পরিদর্শন করেন কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ঈদের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক-সংলগ্ন পশুর হাট বসলেও এটি আদর্শ পরিস্থিতি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ ও ইজারা দেওয়ার বিষয়টি মূলত স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে হয়ে থাকে। তবে হাট যেখানেই বসুক না কেন, র্যাব চেষ্টা করবে বাজারের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা যেন ঠিক থাকে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অধিকাংশ পশুর হাটই মহাসড়ককেন্দ্রিক হওয়ায় যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মহাসড়ক থেকে দূরে বড় খোলা মাঠ বা নির্ধারিত স্থানে পশুর হাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
র্যাব-১৫ অধিনায়ক জানান, পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দৃশ্যমান টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যারব সদস্যরা বিভিন্ন হাটে অবস্থান নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটনা প্রতিরোধে র্যাসব তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিটি বড় পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহায়তায় র্যাাবের মোবাইল কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। হুঁশিয়ার করে লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে হাসিল আদায়ে অনিয়ম, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের হয়রানি, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে র্যা়বের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করবে। হাটকেন্দ্রিক যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বছর কক্সবাজার জেলায় কোরবানির পশুর হাট বসেছে ৯৮টি। এর মধ্যে স্থায়ী হাট ৪৮টি এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে বসেছে আরও ৫০টি।
