কোরবানির পশু বেচা-কেনা
গবাদি পশুরও আছে ‘আবাসিক হোটেল’
পাবনার বেড়া উপজেলার ডাকবাংলো মহল্লায় গবাদি পশুর আবাসিক হোটেল সমকাল
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৬:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানুষের জন্য আবাসিক হোটেলের কথা সবাই জানেন। কিন্তু গরুর জন্যও যে রয়েছে আলাদা ‘হোটেল’, সেখানে আবার রয়েছে থাকা-খাওয়া, বিশ্রাম, গোসল এমনকি নিরাপত্তারও ব্যবস্থা। এমন দৃশ্য এখন পাবনার সাঁথিয়া ও বেড়া এলাকায় বেশ পরিচিত। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে এসব গরুর আবাসিক হোটেল বা স্থানীয় ভাষার ‘খাটাল’। দূরদূরান্ত থেকে কেনা গরু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর আগে এখানেই রয়েছে বিশ্রামের ব্যবস্থা।
সাঁথিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী করমজা চতুরহাটকে ঘিরে হুরাসাগর ও যমুনা নদীর তীরের বিভিন্ন ঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২৫টি খাটাল। বেড়া উপজেলার পৌর এলাকার বৃশালিখা কোলঘাট, ডাকবাংলো ঘাট, আমাইকোলা, শম্ভুপুর, মোহনগঞ্জ ও নাকালিয়া ঘাট এলাকায়তেও এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। খাটাল ঘীরে গড়ে উঠেছে গবাদিপশুর খাবারসহ নানা ধরনের পণ্য কেনাবেচাঁ।
কথা হলে খাটাল মালিক ও ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদককে জানান, বড় গরুর জন্য প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মাঝারি গরুর জন্য ৩৫ টাকা এবং ছোট গরুর জন্য ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। অল্প সময়ের জন্য রাখলে মাত্র ৩০ টাকাতেই ব্যবস্থা হয়। খড় কাটার বৈদ্যুতিক মেশিন, বিশুদ্ধ পানি, গোসলের স্থান, খাবারের নান্দা ও নিরাপত্তাকর্মী-সবই রয়েছে এসব খাটালে।
বেড়ার নাকালিয়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আশিক হোসেন বলেন, ‘হাট থেকে গরু কিনে সঙ্গে সঙ্গে রওনা দিলে গরু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই আগে খাটালে এনে বিশ্রাম দেই। এখানে গরুর খাওয়া-দাওয়া ঠিক থাকে, আবার আমাদেরও নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা হয়।’
মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব বলেন, ‘করমজা চতুরহাট থেকে সাতটি ষাঁড় গরু কিনেছি। ট্রাকে নিলে খরচ বেশি ও ঝামেলা আছে। তাই নৌপথে নেওয়ার আগে এখানে বিশ্রাম করাই।’
ডাকবাংলা এলাকার ভুসি বিক্রেতা রইজ সরদার বলেন, ‘ঈদের মৌসুমে প্রতিদিন কয়েক মণ ভুসি বিক্রি হয়। খাটাল না থাকলে এত ব্যবসা হতো না।’
খড় বিক্রেতা সান সরদার বলেন, ‘দূরদূরান্ত থেকে গরু এলে খড়ের চাহিদাও বেড়ে যায়। অনেক সময় রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়।’
শম্ভুপুর মহল্লার খাটাল মালিক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘গত ৩০ বছর ধরে এই ব্যবসায় আছি। ঈদের সময় এত চাপ থাকে যে অনেক ব্যবসায়ী আগে থেকেই ফোন করে জায়গা বুকিং দেন।’
আরেক খাটাল মালিক আওয়াল হোসেন বলেন, ‘নিজস্ব জায়গায় শেড করেছি। প্রায় ২৫টি ষাঁড় গরু রাখা যায়। আমরা নিরাপত্তা ও খাবারের ব্যবস্থা করি। দূর–দূরান্ত থেকে গরু ব্যবসায়ীরা এখানে এসে নিরাপদে রাত যাপন করেন। ’
সাঁথিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘কোরবানি ঈদ ঘিরে পশুর হাট জমে উঠেছে।
গরুর নিরাপদ বিশ্রাম ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমাতে এসব আবাসিক খাটাল এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
- বিষয় :
- গরুর হাট
