ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্কুলছাত্রী রিয়া হত্যায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

স্কুলছাত্রী রিয়া হত্যায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩
×

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক কিশোরীর লাশের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর কথিত প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুম করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত রিয়া খাতুন পাবনা শহরের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার মো. আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে এবং স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। গ্রেপ্তাররা হলেন, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. নাঈম, ইয়াসিন শেখ ও মো. তুহিন প্রামানিক। গতকাল বুধবার দিনভর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লাশগুমে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, রিয়ার সঙ্গে নাঈমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাড়িতে যায়। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাঈম তাঁকে গলা টিপে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে দুই সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে নিয়ে রিয়ার হাত বেঁধে লাশ বস্তাবন্দি করে।

এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে লাশ নিয়ে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়।
পুলিশ জানায়, লাশ ফেলে ফেরার পথে প্রাইভেটকারটি বিকল হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ওই সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
বুধবার সকালে পদ্মার চরে কৃষকেরা কাজ করতে গিয়ে নদীর তীরে একটি নৌকার পাশে ভাসমান বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাত বাঁধা এবং গলায় ব্যাগ পেঁচানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত না হলেও গলায় থাকা রূপার চেইনের সূত্র ধরে স্বজনরা রিয়াকে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. ছুফিউল্লাহর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ডিএসবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. ছুফিউল্লাহ বলেন, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×