সেতুতে জ্বলে না বাতি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৈদ্যুতিক কেবল (তার) চুরির ১১ মাস হতে চললেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি সেতুর ৩৬টি বাতি জ্বলছে না। ফলে রাতে দুর্ঘটনা, ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করতে হয় জনসাধারণকে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, কুমারখালী শহর-যদুবয়রা সড়কে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত ৬৫০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুটি ২০২৩ সালে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সেতুটি থেকে বৈদ্যুতিক কেবল (তার) চুরি যায়। এতে বন্ধ হয়ে আছে ৩৬টি সড়কবাতি। অকেজো পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা খরচে সেতুটি নির্মাণ করে ন্যাশনটেক কমিউনিকেশন ও রানা বিল্ডার্স। ২০২৩ সালের ২৮ জুন সেতু দিয়ে চলাচল শুরু হয়। এ সেতুর জন্য মাসে ২৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল গুনতে হয় সরকারকে। বিল বকেয়া থাকায় কয়েক মাস বন্ধ ছিল বাতি। এতে ৩৫টি বাতি অকেজো হয়ে যায়। এ নিয়ে দৈনিক সমকালে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ‘বাতি জ্বলে না ৯০ কোটি টাকার সেতুতে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি বাতি পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে একই বছরের ২৬ জুলাই রাতে সেতুর প্রায় চার লাখ টাকা দামের ৬৫০ মিটার কেবল চুরি যায়। এরপর থেকে আর জ্বলেনি সেতুর বাতি।
গত বুধবার রাতে দেখা গেছে, সেতুতে ঘুটঘুটে অন্ধকার। দু’পাশে সারিবদ্ধ খুঁটিতে বাতি স্থাপন করা থাকলেও তা জ্বলছে না। ৩৬টি খুঁটির মধ্যে মাত্র চারটি খুঁটিতে সোলার প্যানেলের বাতি জ্বলতে দেখা যায়। হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করছে। অসহ্য গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির জন্য এলাকার লোকজন সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন।
জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ শরীফ বলেন, শতকোটি টাকার সেতুতে লাইট থাকবে না–এটি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। এর তদারকি করার যে কেউ আছে তাও বোঝা যায় না। এই শিক্ষকের অভিযোগ, রাত ১০টা বাজলেই সেতুতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। যারা চুরি করেছে সিসিটিভি থাকতেও তাদের শনাক্ত করে কেন গ্রেপ্তার করা হয় না? বাতি না থাকায় সেতুর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।
কুমারখালী এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, বিল বকেয়া থাকায় কিছুদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। এতে বেশ কিছু বাতি নষ্ট হয়। পরে বকেয়া পরিশোধ করে ১৭টি বাতি পুনঃস্থাপন করা হয়। প্রায় ৪ লাখ টাকার কেবল চুরি হওয়ায় সব বাতি বন্ধ রয়েছে। কেবল কেনা ও বাতি জ্বালানোর জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
এ কারণে জনদুর্ভোগ হচ্ছে বলে স্বীকার করেন ইউএনও ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, জনস্বার্থে ইতোমধ্যে চারটি সোলার বাতি স্থাপন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- চুরি
