তল্লাশির নামে ঘরবাড়ি তছনছ টাকা লুটপাটের অভিযোগ
চাটমোহরে মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুণ্ডা গ্রামে ফজলুর রহমানের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানে তল্লাশির সময় মালপত্র তছনছ করার অভিযোগ ওঠে সমকাল
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে ছয়জন মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তবে অভিযানের সময় এক মাদক বিক্রেতার বাড়িতে তল্লাশির নামে ভাঙচুর, আসবাব তছনছ এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের সদস্যদের বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অভিযান চালানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুণ্ডা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ফজলুর রহমান ওরফে ঘোড়া ফজলুসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। এ সময় ফজলুর বাড়ি থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে মাদক সেবনের কারণে কয়েকজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে ঘোড়া ফজলুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চাটমোহর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন অমৃতকুণ্ডা গ্রামের ফজলুর রহমান ওরফে ঘোড়া ফজলু, তাঁর ছেলে রাসেল, আনোয়ার হোসেন, বালুদিয়ার সাহাপুর গ্রামের জাকির খন্দকার, কুবিরদিয়ার মানিক হোসেন ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লিটন।
এদিকে অভিযানের পর ঘোড়া ফজলুর স্ত্রী শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির নামে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিল, আর আমার স্বামীর পকেটে ছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট করেছে।’
অন্যদিকে আটক আনোয়ার হোসেনের মেয়ে আমেনা খাতুন দাবি করেন, তার বাবা একজন লালনভক্ত এবং কোনো ধরনের মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি লালন একাডেমিতে বসেছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বয়স্ক মানুষ। তাঁকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাসি খাতুনও অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় কয়েকজনকে সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে এবং একটি বাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনার পরিদর্শক আব্দুর রহিম।
তিনি বলেন, ‘ফজলু দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে বহু অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। কোনো ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়নি। বাড়ির গেট খুলতে না দেওয়ায় সেটি জোর করে খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা। জব্দ করা ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ টাকা সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গণনা করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’
- বিষয় :
- লুটপাট
