ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক-ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক-ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
×

ছবি: সমকাল

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ২০:০৪ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ২০:১২

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আমাদের সন্তান ও যুবসমাজ যদি খেলার মাঠে থাকে, তাহলে তাদের ডিভাইস আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। একটি সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ভায়ারদিঘী সংলগ্ন খরনা এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পটিয়ায়ও সেই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন দৃশ্যমানভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে পটিয়া স্টেডিয়ামের জমি অধিগ্রহণ করেছি। স্টেডিয়াম নির্মাণের বাজেটও অনুমোদিত হয়েছে। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। তবে এটি শুধু সরকারের সম্পদ নয়, স্থানীয় জনগণেরও সম্পদ। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে।

খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর ফলে তারা বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। খেলাধুলার প্রসার ঘটানো গেলে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমরা সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলছি, যাতে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করা যায়। যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে পারলে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা এবং মোবাইল নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।

ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্রীড়া ভাতার আওতায় ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ৫০০ খেলোয়াড়কে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

এ সময় তিনি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠন করে ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

১২ মাসে নির্মাণ, ব্যয় ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বাস্তবায়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় (প্রথম সংশোধিত) এর আওতায় পটিয়া মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১২ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৮ কোটি ২৭ লাখ ৬ হাজার ৮৬১ টাকা। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করছে খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, দীর্ঘদিনের দাবির পর পটিয়ায় স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এলাকার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। স্টেডিয়ামটি নির্মিত হলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ফারহানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান, প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মোরশেদ সোহেল, প্রকৌশলী সুকুমার সাহা, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন এম এস সি, জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, বিএনপি নেতা মফজল আহমদ চৌধুরী, একেএম জসীম, মোর্শেদুল শফি হিরু, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হাজী কামাল উদ্দিন, মোজাম্মেল হক চৌধুরী, তৌহিদুল আলম, আবুল কাশেম, আবদুল মাবুদ, আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন, আবুল বশর সিআইপি, নাজমুল হক রিপন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন

×