ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

যমুনা সেতুতে পরপর ৪ দুর্ঘটনা, দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজট

দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

যমুনা সেতুতে পরপর ৪ দুর্ঘটনা, দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজট
×

প্রতীকী ছবি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ২২:৫৭

শুক্রবার যমুনা সেতুর ওপর পরপর চারটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা হাজারো মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বন্দি থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রচণ্ড গরম ও পানিসংকটে বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের অবস্থা অনেক জায়গায় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

সন্ধ্যার আগে সেতুর ওপর একের পর এক দুর্ঘটনার পর যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত ধীরগতিতে কিছু যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘ যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি। বিশেষ করে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী হাজারো যাত্রী আটকে থাকতে দেখা যায়।

সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সেতুর পূর্ব প্রান্তের ৭ নম্বর লেনের কাছে। উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে একজন যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিপরীতমুখী লেনে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী একটি কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনায় পড়ে। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও দুটি দুর্ঘটনা ঘটলে সেতুর ওপর যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে যায়।

যমুনা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন বলেন, ‘একই সময়ে ধারাবাহিক কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে রেকারসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারপরও যানজট নিরসনে সময় লাগছে। এমন পরিস্থিতি আগে খুব কমই দেখা গেছে।’

যানজটে আটকে থাকা মানুষের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের ভেতরে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। অনেকেই বাস থেকে নেমে মহাসড়কের পাশে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। 

পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন এলজিইডির কর্মচারী মজনু বেগম। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে সেতুর পূর্ব প্রান্তে আটকে আছি। ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। কখন গন্তব্যে পৌঁছাব, তা-ও জানি না।’

ঘোড়াঘাট থেকে ঢাকাগামী যাত্রী সুলতানা মহারাবি বলেন, ‘দুই শিশু সন্তান নিয়ে বাসে আছি। প্রথমে গোবিন্দগঞ্জে দীর্ঘ সময় আটকে ছিলাম, পরে সেতুর কাছেও কয়েক ঘণ্টা ধরে বসে আছি। প্রচণ্ড গরমে শিশুদের সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

পরিস্থিতি মোকাবিলায় যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ এবং ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে একাধিক রেকার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবু যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও ঈদ-পরবর্তী যাত্রীস্রোতের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণে দুই দিকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীরা যেমন কষ্ট পাচ্ছেন, তেমনি পুলিশ সদস্যদেরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের জন্য থানার টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।’

এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সেতুর ওপর চারটি দুর্ঘটনা এবং কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ার কারণে যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। 

আরও পড়ুন

×