ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

এবার এনসিটি পরিচালনায় দুই এমপির প্রস্তাব

এবার এনসিটি পরিচালনায় দুই এমপির প্রস্তাব
×

 বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা করতে এবার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপির দুই এমপি। ‘সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম’ নামে একটি জোট করে এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাবটি গত ২৮ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। তাদের সেই প্রস্তাবের বিষয়টি এত দিন গোপন রেখেছিল মন্ত্রণালয়। টার্মিনালের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ বন্দরের হাতে রেখেই ১৫ বছরের জন্য শুধু এনসিটি পরিচালনা করতে চায় তারা। 

চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) বর্তমান অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড নতুন এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে। সঙ্গে নিয়েছে দুই বার্থ অপারেটর কসমস এন্টারপ্রাইজ ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডকে। কসমস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এমপি ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম।  
এনসিটি পরিচালনা করতে এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছিল। তাদের প্রস্তাব আলোচনায় থাকতেই নতুন এই জোট এবং দেশি বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপ ২৮ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে আলাদাভাবে দুটি প্রস্তাব জমা দেয়।  

নতুন এ প্রস্তাবে জাহাজ নোঙর করা ও মাশুল আদায়ের সব এখতিয়ার বন্দরের হাতে থাকবে। পরিচালনার জন্য তারা বন্দর থেকে ৬৯ ডলার পরিচালনা মাশুল নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, এই পরিচালনা খরচ দেওয়ার পরও প্রতি কনটেইনারে বন্দরের আয় থাকবে গড়ে ৯২ ডলার। পাশাপাশি টার্মিনালটির পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে বন্দরের হাতে। 
সাইফ পাওয়ার টেক ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করে। এ সময়ে সক্ষমতার অতিরিক্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার রেকর্ড করেছিল তারা। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ২০২৪ সালের ৬ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাইফের চুক্তি আর নবায়ন করেনি। পরে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ড্রাইডককে। তবে কসমস ১৯৮৯ সাল থেকে ও এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ ১৯৮৮ সাল থেকে বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছে। দেশের বন্দরে সরাসরি কাজ করার ভালো অভিজ্ঞতা আছে তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকেই প্রথম প্রস্তাব পেয়েছি আমরা। তাদের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান। এই মুহূর্তে নতুন প্রস্তাব বিবেচনায় আনার সুযোগ নেই। তবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে।

জানতে চাইলে সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন বলেন, আমাদের প্রস্তাবনা মানলে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দর প্রতি একক কনটেইনারে ৯২ ডলার রাজস্ব ধরে রাখতে পারবে। কারণ বর্তমানে প্রতি একক কনটেইনারে বন্দর আয় করে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার। আর ব্যয় করে ৫৬ দশমিক ১৫ ডলার। সব খরচ বাদ দিয়ে বন্দরের নিট আয় থাকছে এখন কনটেইনারপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৭ ডলার। ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয় আমলে নিয়ে তাই ৬৯ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা।
আরেক অংশীদার এমপি শাহাদাত হোসেন  বলেন, বিদেশিদের প্রস্তাবের সঙ্গে আমাদের নতুন প্রস্তাবের বড় ধরনের পার্থক্য আছে। বিদেশিদের দিলে টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ হারাবে বন্দর। আমাদের প্রস্তাবে পুরো নিয়ন্ত্রণ বন্দরের কাছেই থাকবে।

আরও পড়ুন

×