ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মরছে নদী, কাঁদছে হাওর

মরছে নদী, কাঁদছে হাওর
×

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতি ক্রমশ সংকটের দিকে যাচ্ছে। নদী-খাল খনন ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত না করে প্রতি বছর শত কোটি টাকা খরচ করে কেবল বাঁধ নির্মাণ করায় এমন নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কেবল ফসল রক্ষার চেষ্টা করায় স্বল্প মেয়াদে কিছু সুবিধা পাওয়া গেলেও কার্যত বিপন্ন হচ্ছে হাওরের পরিবেশ-প্রতিবেশ। এককালের প্রমত্তা নদীগুলো তার রূপ হারিয়েছে। নদীর বুকে গড়ে ওঠছে জনবসতি। জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ফসল। নদী খনন না হওরের পানি নিষ্কাশনে বাঁধা তৈরি হওয়ায় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে।
জেলার জগন্নাথপুরের নলজুর নদী ভরাট হয়ে খালে রূপান্তর ঘটেছে। এ নদী এক সময় ২৫০ ফুট প্রশস্ত ছিল। নদী দিয়ে লঞ্চ চলত। এ নদী স্থানে স্থানে দখল হয়েছে। এ কারণে নলুয়ার হাওরের পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এ উপজেলার কাটাগাঙ ভরাট হয়ে মইয়ার হাওরেও চর পড়েছে। হাওরজুড়ে এখন বাড়ি-ঘর তৈরি হয়েছে। একইভাবে সীমান্তের পাহাড়ি নদী যাদুকাটার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অংশ ভরাট হয়ে জনবসতি গড়ে উঠেছে। এ নদীর বুকে উপজেলার সিরাজপুর, চরপাড়া, জামালপুর ও বড়খলা গ্রামের অনেক বাড়ি-ঘর করে নিয়েছেন। আরেকটি পাহাড়ি নদী দামালিয়া। এটি চিনাকান্দি, ধনপুর, কাটাখালি, মুক্তিখলা, মল্লিকপুর হয়ে করচার হাওরে মিলেছে। এ নদীও ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে করচার হাওরে এবারও জলাবদ্ধতায় ডুবেছে হাজারো কৃষকের বোর ধান।
জেলার তাহিরপুরের শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারের কাছে কালাগাঙে ২০১২ সালে উন্নয়ন সংগঠন সিএনআরএসের উদ্যোগে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। বাঁধের ওপরে এখন বাজার গড়ে উঠেছে। একই নদীর দুই কিলোমিটার দক্ষিণে পুঠিমারার পালই বিলের সংযোগস্থলে আরেকটি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা হয়।

তাহিরপুরের সবকটি নদী আন্ত সীমান্ত নদী। গারো পাহাড় থেকে নেমে এসব নদ-নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশের মনাই নদীর ওপরও বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।

নদী খনন না করে উল্টো স্থানে স্থানে বাঁধ দেওয়ার কারণে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১০৬টি নদীর বেশির ভাগ বিপন্ন হয়েছে। এতে প্রভাব পড়েছে হাওরে-বিলে। বিল ভরাট হয়েছে, হাওরে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে।
শ্রীপুর বাজারের কাছে কালাগাঙ নদীতে দেওয়া বাঁধ প্রসঙ্গে উন্নয়ন সংগঠন সিএনআরএসের কর্মকর্তা ইয়াহিয়া সাজ্জাদ গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, পাশের তরং গ্রামের লোকজনের চাপাচাপিতে এ বাঁধ নির্মাণ করেছিল সিএনআরএস।
৭ বছরে বাঁধে খরচ ৮০০ কোটি টাকা!

নদী খনন না করে স্থানে স্থানে দেওয়া অপরিকল্পিত বাঁধের নামে সুনামগঞ্জে গেল সাত বছরে কমপক্ষে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ টাকার বেশির ভাগ লুটপাট হয় এমন অভিযোগও আছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ১০৪ কোটি ৩৮ লাখ, ২০২০-২১-এ ১১০ কোটি ৮০ লাখ, ২০২১-২২-এ ৯৫ কোটি ৫২ লাখ, ২০২২-২৩-এ ১৫৫ কোটি ২১ লাখ, ২০২৩-২৪-এ ১০১ কোটি ৮০ লাখ, ২০২৪-২৫-এ ১০৩ কোটি ৭৭ লাখ এবং চলতি বছরে (২০২৫-২৬ অর্থবছরে) ১৪৯ কোটি টাকা।
 

আরও পড়ুন

×