ত্রিশালে যুবদলের কমিটি নেই ১৪ বছর
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৯:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ জেলার প্রতিটি থানায় যুবদলের কমিটি থাকলেও ব্যতিক্রম শুধু ত্রিশাল। ১৪ বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছিল এ থানার আহ্বায়ক কমিটি। এ নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে ত্রিশালের যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে ইতোমধ্যে অনেকেই ঢুকে গেছেন মূল দল বিএনপিতে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ত্রিশাল থানা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জুলফিকার হায়দার ভুট্টো, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন খন্দকার শাহজাহান কবির। ২০০৩ সালে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে খন্দকার শাহজাহান কবিরকে আহ্বায়ক এবং কাজী খালেকুজ্জামান সোহেল, আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার ও আলীম আল রাজী উজ্জ্বলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৯০ দিন। তবে কবির-সোহেলের কমিটি ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৯ বছর দায়িত্ব পালন করে।
২০১২ সালে ত্রিশাল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন, তৎকালীন জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাসুদ। এর ১০ বছর পর ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি থানা ও পৌর যুবদলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও কোনো কমিটি ঘোষণা হয়নি। প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ক্লান্ত পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।
থানা যুবদলের সভাপতি ও সম্পাদকের পদ পেতে খন্দকার শাহজাহান কবির, মাসুদ মুর্শেদ, কাজী খালেকুজ্জামান সোহেল, আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার, আব্দুল মতিনসহ অনেকেই দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। রণেভঙ্গ দিয়ে এক পর্যায়ে কাজী খালেকুজ্জামান সোহেল, আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার, আব্দুল মতিনসহ অনেকে যোগ দিয়েছেন মূল দল বিএনপিতে।
যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিন সরকার বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকলে সাংগঠনিক অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। কমিটি থাকা মানেই নেতার্মীদের মধ্যে চাঙাভাব বিরাজ করা।
যুবদল নেতা মাসুদ মুর্শেদ বলেন, দলের দুঃসময় ১৯৮৭ সালে ত্রিশাল নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ত্রিশাল থানা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে উপজেলা যুবদলের কোনো দায়িত্ব পাইনি, শত ত্যাগ স্বীকার করেও মেলেনি বিএনপির সদস্য পদও। দীর্ঘ সময় সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার পরও পদ না পেয়ে আমার মতো অনেক নেতাকর্মী হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
পদের প্রত্যাশায় প্রায় এক যুগ ধরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনসহ দলীয় সব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন– উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আলম জুয়েল মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি (বর্তমানে বহিষ্কৃত) মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য (বর্তমানে বহিষ্কৃত) শাহ মোহাম্মদ শাহাবুল আলম ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদসহ অনেকেই।
সাবেক ছাত্রনেতা মাজহারুল আলম জুয়েল মন্ডল বলেন, আমার মতো আমার হাজারো অনুসারী দীর্ঘ সময় দলীয় পদের আশার বিগত সরকারের আমলে জেল-জুলুম ও হয়রানির স্বীকার হয়েছে।
জেলার সবগুলো উপজেলায় কমিটি থাকলেও ত্রিশালে কেন নেই, এমন প্রশ্নে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াজুল কবির মামুন বলেন, আমাদের ইচ্ছার কোনো কমতি ছিল না। বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম ও বিভিন্ন কারণে ত্রিশালের কমিটি করতে পারিনি। সম্প্রতি যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়েছে। এখন ত্রিশালে কমিটি গঠনসহ জেলার সবগুলো ইউনিটের কমিটি ঢেলে সাজানোর সম্ভাবনা আছে। সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম খান রাজু জানান, কেন কমিটি ঘোষণা হয়নি তা বলতে পারব না। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা পেলে আমরা এগোতে পারব।
- বিষয় :
- যুবদল