ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

তদন্তে নিয়ম মানার তথ্য, ভুয়া তালিকার অভিযোগ অব্যাহত

তদন্তে নিয়ম মানার তথ্য, ভুয়া তালিকার অভিযোগ অব্যাহত
×

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জে গত দুর্গাপূজার জন্য বরাদ্দের ১০০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যেসব মন্দির বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
তবে সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের স্বর্গীয় বীরেন্দ্র চন্দ্র সরকারের বাড়ির দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র সরকার দাবি করেছেন, যে ৬৪টি মন্দির ও সংগঠনের নামে চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, এর মধ্যে ১০-১২টি সঠিক, বাকি সবগুলো ভুয়া।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি সমকালের শেষ পাতায় ‘কিশোরগঞ্জে পূজার বরাদ্দের ১০০ টন চাল আত্মসাৎ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছিল, যে ৬৪টি সংগঠনের নামে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছিল, সমকালের অনুসন্ধানে এর অধিকাংশই দেখা গেছে ভুয়া। যেগুলোর অস্তিত্ব আছে, সেগুলোও চাল পায়নি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই ঘটনা তদন্তে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান সদরের ইউএনওর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি করেন। কিন্তু ১০ মাসেও কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি মর্মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর। এ প্রেক্ষাপটে বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত বছর ২৭ অক্টোবর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাক ও তদন্ত কমিটির তিন সদস্যের ওপর রুল নিশি জারি করেন। এতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা না দেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে পরে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ জারি হয়েছিল। এর পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। 

সম্প্রতি ওই তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সমকালের হাতে এসেছে। এতে দেখা গেছে, তৎকালীন ইউএনও মো. এরশাদ মিয়া, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুর রহমান মনির ও সদর উপজেলা পল্লি জীবিকায়ন প্রকল্প কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেন। এতে লেখা হয়েছে– তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, যেসব মন্দির বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে চাল বরাদ্দ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে চাল উত্তোলন হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও রয়েছে বলে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারয়ণ দত্ত প্রদীপের লিখিত চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উত্তোলিত চাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগতদের প্রসাদ হিসেবে রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতিরা লিখিত প্রত্যয়ন দাখিল করেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

তবে গত বুধবার বিন্নাটি ইউনিয়নের স্বর্গীয় বীরেন্দ্র চন্দ্র সরকারের বাড়ির দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র সরকার জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন। এতে লিখেছেন, যে ৬৪টি মন্দির ও সংগঠনের নামে চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, এর মধ্যে ১০-১২টি ছাড়া অন্যগুলো ভুয়া। এমনকি তাঁর বাড়ির দুর্গামন্দিরের নামেও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমকালের হাতে ৯টি মন্দিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পদক ও এক ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত চিঠি এসেছিল। এসব মন্দিরের নামেও চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অথচ চিঠিতে বলা হয়েছে, তাঁরা এ ধরনের চাল বরাদ্দ পাননি, উত্তোলনও করেননি। নীলগঞ্জ সার্বজনীন কালিপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি বিমল পাল ও মহিনন্দ সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সভাপতি স্বদেশ চন্দ্র দাস গত শুক্রবার বলেন, তাদের মন্দিরে এ ধরনের বরাদ্দের কোনো চাল দেওয়া হয়নি। তবে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ণ দত্ত প্রদীপের দাবি, চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।
সদর উপজেলার ইউএনও কামরুজ্জামান মারুফ জানিয়েছেন, হাইকোর্ট থেকে জবাব চাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে গত বছর ২৪ নভেম্বরের আগেই জমা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×