ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

হাজিরা দিতে এসে আদালতের বারান্দায় আসামির মৃত্যু

হাজিরা দিতে এসে আদালতের বারান্দায় আসামির মৃত্যু
×

আদালতের বারান্দার একটি বেঞ্চে ময়নুল হককে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান উপস্থিত লোকজন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ছবি-সমকাল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ২০:৪০

পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বারান্দায় ময়নুল হক (৫৯) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দার একটি বেঞ্চে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান উপস্থিত লোকজন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়নুল হক পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বারো আউলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জমিসংক্রান্ত একটি মামলার প্রধান আসামি হিসেবে আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিচার বিভাগীয় এক কর্মকর্তার পরিদর্শন কর্মসূচি থাকায় সেদিন আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়নি। এ সময় ময়নুল হক কিছুক্ষণ আদালতের এজলাস কক্ষে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি একবার বমিও করেন বলে জানান উপস্থিতরা। পরে তিনি বাইরে এসে বারান্দার একটি বেঞ্চে বসেন এবং কিছুক্ষণ পর শুয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে লোকজন তার কাছে গিয়ে দেখেন তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। পরে বিষয়টি পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপেন্দ্রনাথ সিংহ জানান, দুপুরে লাঞ্চ বিরতির সময় তাকে ডাকার চেষ্টা করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে কাছে গিয়ে দেখা যায় তিনি অচেতন। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ময়নুল হকের ভাতিজা ফয়সাল কবির বলেন, তার চাচার গুরুতর কোনো শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। মামলার তারিখ থাকায় তিনি নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে আদালতে এসেছিলেন। হঠাৎ তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পরিবার হতবাক হয়ে পড়ে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর খান মো. শাহরিয়ার জানান, বেঞ্চে শুয়ে থাকা অবস্থায় তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে উপস্থিত অনেকের ধারণা, এর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন কুমার বণিক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ময়নুল হকের মৃত্যু হয়েছে।

ময়নুল হকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

×